রক্তদান ভালো, নাকি মন্দ?

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৪, ১১:০৮ এএম

আধুনিক সমাজে রক্ত-পরিসঞ্চালন সহজেই বাঁচিয়ে দিচ্ছে অসংখ্য মানুষের জীবন। এককালে সাধারণ রক্তক্ষরণেই মারা যেত অসংখ্য মানুষ। মানবদেহে সফল রক্ত পরিসঞ্চালনের ইতিহাস খুব বেশিদিনের নয়। তবে এর প্রচেষ্টাটি দীর্ঘ।

রক্ত পরিসঞ্চালনের ইতিহাস

১৫৪২ সালে পোপ অষ্টম ইনোসেন্ট তরুণ হওয়ার আশায় তিন তরুণের শরীর থেকে রক্ত নিলেন নিজের শরীরে। হতভাগ্য পোপ মারা গেলেন, তারুণ্য  ফিরে পাওয়া হলো না। বলা যায় এটাই ছিল রক্ত পরিসঞ্চালণের প্রথম উল্লেখযোগ্য প্রয়াস।

১৬৬৭ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী জাঁ ব্যাপটিস্ট মানুষের শরীরে ভেড়ার রক্ত ভরলেন। মানুষটি মারা গেল।  জাঁ ব্যাপটিস্ট খুনের দায়ে অভিযুক্ত হলেন। এরপর অনেক বছর থেমে ছিল রক্ত পরিসঞ্চালনের প্রচেষ্টা।

১৮১৮ সালে জেমস ব্লান্ডেল নামে এক ব্রিটিশ ডাক্তার তাঁর নিজের তৈরি ট্রান্সফিউশন সেট দিয়ে এক প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণের রোগীর শরীরে রক্ত পরিসঞ্চালন করলেন। রক্ত দিলেন রোগীর স্বামী। রোগীটি বেঁচে গেল। সেই উৎসাহে জেমস সাহেব আরো কয়েকজন রোগীকে একই ভাবে রক্ত দিলেন। কিন্তু এদের অনেকেই মারা গেল। মানুষের কাছে রক্ত পরিসঞ্চালনের আসল রহস্যটি তখনো পরিষ্কার হয়নি।

১৯০১ সাল। কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার নামের একজন অস্ট্রিয়ান চিকিৎসাবিজ্ঞানী জানালেন রক্তের প্রধান তিনটি গ্রুপের কথা। এ, বি, ও গ্রুপ। এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের সঙ্গে মেলেনা। গ্রুপ মিলিয়ে রক্ত দিলে তবেই পরিসঞ্চালন নিরাপদ হবে।  ১৯৩০ সালে এই মহান বিজ্ঞানী নোবেল পান।

১৯৪০ সালে তিনি মানবজাতিকে এগিয়ে দিলেন আরেক ধাপ। বললেন রক্তের নেগেটিভ পজিটিভের কথা। এর নাম ‘আর এইচ সিস্টেম’।

রক্তদান ভালো নাকি মন্দ

রক্ত দেওয়া নিয়ে অনেকের মনে অনেক ভ্রান্ত ধারণা কাজ করে। রক্ত দিলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না। রক্ত দিলে শরীর শুকিয়ে যায় না, শক্তি নিঃশেষ হয়না। বরং রয়েছে নানা রকম উপকার। এতে একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব।

গবেষণায় মিলেছে, নিয়মিত রক্ত দিলে বিশেষ কিছু ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। রক্ত দিলে শরীরে নতুন লোহিত কণিকা তৈরির হার বাড়ে। এতে অস্থিমজ্জার রক্ত উৎপাদন প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে।

যাদের রক্তে আয়রনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের জন্য রক্তদান এক ধরনের চিকিৎসা। রক্ত দিলে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে, কারো কারো ক্ষেত্রে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

শরীরে হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, জন্ডিস, ম্যালেরিয়া, সিফিলিস, এইচআইভি বা এইডসের মতো বড় কোনো রোগ রয়েছে কি না, সেটি রক্তদান উপলক্ষ্যে জানা হয়ে যায়। এগুলো বাড়তি সুবিধা।

বাংলাদেশে প্রতিবছর ছয় লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। এর এক পঞ্চমাংশ আসে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের কাছ থেকে৷ আশার কথা যে স্বেচ্ছায় রক্তদানের হার দিন দিন বাড়ছে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রক্তরোগ বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট প্রাণ গেছে ১১১ জনের। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৫২ জন। 
দেশে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যুতে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে। 
হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৫৯ জনের শরীরে। এছাড়া নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৭২ জন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য...
আগস্টে আবারও ভয়াবহ রুপে ফিরেছে ডেঙ্গু। এক মাসেই ভেঙে গেছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় বছরের সব রেকর্ড। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৩৫ হাজারের বেশি, যার মধ্যে শুধু আগস্টেই আক্রান্ত সাড়ে...
শুধু স্লোগান দিয়ে বিএনপিকে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না, বিএনপিকে চিনতে হলে জ্ঞানের কোনো বিকল্প নাই বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বাংলা...
কিন্তু বিতর্ক থামেনি। উজবেকিস্তান যাওয়ার ঠিক আগে টিম হোটেলে জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে কথা-কাটাকাটির ঘটনা সামনে আসে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি গড়ায় ধাক্কাধাক্কিতে। আর তখনই ৯৯৯-এ ফোন করে...
মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়িটির টিনের চালের একটি অংশ উড়ে যায়। এ ঘটনায়...
বিদেশে অবস্থান করা বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের মর্যাদার সঙ্গে দেশে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারের এই প্রতিশ্রুতির কথা জানায়। তবে...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর