রাজধানী ঢাকার রাস্তায় যানজট নতুন কিছু নয়। বলা যায়, এটি একটি নিত্যসমস্যা। তবে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়ায় তা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। কনসার্টে যাওয়ার পথে তেমনই ভোগান্তিতে পড়েছেন জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীনের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জামালপুরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি কনসার্টে পারফর্ম করার কথা ছিল ব্যান্ডটির। কিন্তু গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেন একটি গার্মেন্টস কোম্পানির শ্রমিক ও কর্মকর্তারা। ফলে মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন লাখ লাখ মানুষ। এই যানজটের কারণে অবশেষে কনসার্টটি মিস করেন শিরোনামহীনের সদস্যরা।
গত ২৮ বছরে এমনভাবে কনসার্ট মিস করার রেকর্ড নেই ব্যান্ডটির। ফলে শ্রোতাদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরোনামহীনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, গাজীপুরের চন্দ্রাতে গার্মেন্টস কর্মীদের আন্দোলনে চার ঘণ্টা ধরে রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে আমরা কোনোভাবেই আজকের কনসার্টে সময় মতো উপস্থিত হতে পারিনি। বিকেলে (বৃহস্পতিবার) একটি পোস্টের মাধ্যমে আমরা জামালপুরের পথে আছি—এটা জানানোর আধাঘণ্টা পর থেকেই আমরা ১০ কিলোমিটার লম্বা জ্যামের ভিতরে আটকে যাই। ইউটার্ন করে অন্যপথে যাওয়ারও কোনো উপায় ছিল না।’
এভাবে সড়ক বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিরোনামহীন। তাঁরা বলেন, ‘প্রধান সড়ক বন্ধ করে এ ধরনের আন্দোলনে হাজার হাজার যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্সসহ হাজার হাজার যাত্রীর অবর্ণনীয় দুর্ভোগ কখনোই কাম্য নয়। রাত ৯টার পরে খুবই ধীর গতিতে যান চলাচল শুরু হয়। আমরা আয়োজককে জানালাম রাত ১২টা/সাড়ে ১২টা বাজলেও আমরা এসে পারফর্ম করতে চাই। কিন্তু সিকিউরিটি এবং পুলিশ পারমিশনের জন্য সেটাও সম্ভব নয়। আমরা আয়োজককে প্রস্তাব দিলাম যদি সম্ভব হয় এই কনসার্টটি আমরা আগামীকাল করতে চাই। কিন্তু সেই ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

এ বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হলে ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে ব্যান্ডটির দলনেতা বেজিস্ট জিয়াউর রহমান বলেন, ‘রওনা দেওয়ার সময় ভাবতে পারিনি এ অবস্থা হবে। প্রায় ৮ ঘণ্টা আমরা জ্যামে বসে ছিলাম। খুব কাছ থেকে দেখেছি, মানুষের কী ভোগান্তি! অ্যাম্বুলেন্স আটকে ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা, যার হয়তো হাসপাতালে যাওয়াটা এই মুহূর্তেই দরকার। গার্মেন্টমস কর্মীদের আন্দোলন অবশ্যই যৌক্তিক, কিন্তু এইভাবে জনভোগান্তি সৃষ্টি করে, রাস্তা আটকে দিয়ে তো এটার সমাধান হবে না। তারা যেহেতু বেতন পাচ্ছে না, তাহলে তাদের কোম্পানি ঘেরাও করুক, নয়তো যারা কাছে টাকা পায়, তার বাসা ঘেরাও করুক—জনসাধারণকে এ জন্য ভোগান্তিতে ফেলে কী লাভ? সরকারের কাছেই-বা এ ধরনের দাবি জানিয়ে লাভ কী? একটা কোম্পানির মালিকের তো টাকা-পয়সার অভাব নেই, তারা তাকে ধরুক যে, আমাদের বেতন দিন। রাস্তায় আন্দোলন করে এর সমাধান হবে? তাদেরও (গার্মেন্টস কর্মীরা) যেমন কাজ করে খেতে হয়, আমাদেরও তো কাজ করেই চলতে হয়। অন্যদের ক্ষেত্রেও তাই। তাহলে এভাবে অন্যের কাজে ভোগান্তি সৃষ্টি করা কেন?’
অবশেষে বিলম্বিত হলেও কনসার্টটি যেন হয়, আয়োজকদের সেই প্রস্তাব দেয় শিরোনামহীন। কিন্তু নিরাপত্তার কথা ভেবে তা আর সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ওই পোস্টে ব্যান্ডটি বলে, ‘জামালপুরের এই কনসার্টটি কনফার্ম ঘোষণা করার পর থেকেই আমরা জামালপুরবাসীর অনেক মেসেজ পেয়েছি। আমরা জানি কতটা আবেগ জমিয়ে রেখেছিলেন আপনারা এই দিনটির জন্য। এই কনসার্টটি দেখার জন্য যারা আশা করে ছিলেন এবং দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন, আমরা সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরাও দুপুর ১টা থেকে এখন পর্যন্ত সবাই গাড়িতে। কখন বাসায় যেতে পারব সেটাও জানি না। কনসার্টটা এভাবে মিস হয়ে যাওয়ায় আমরাও আহত হয়েছি। শিরোনামহীন গত ২৮ বছরে এভাবে কোনো কনসার্ট মিস করেনি। কাল অথবা পরশু যদি কনসার্টটি করা সম্ভব হয় আমরা অবশ্যই আপনাদের জানাব।’
যদিও কনসার্টটি আবারও হবে কিনা সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। এ সম্পর্কিত আপডেট ব্যান্ডটি তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে খুব শিগগিরই জানাবে।
শিরোনামহীনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘খুবই দুঃখ পেয়েছি। এমনটা হয়নি কখনও। আমরা আশা করি আগামী কয়েক দিনের ভিতরেই কনসার্টটি যেন করতে পারি।’
প্রসঙ্গত, সর্বশেষ শিরোনামহীন ‘মা’ নামে একটি নতুন গান প্রকাশ করেছে। যেখানে মমতাময়ী মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও আবেগ-অনুভূতির বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে, শিরোনামহীন তাদের অষ্টম অ্যালবাম ‘বাতিঘর’-এর গানগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই অ্যালবামের ‘বাতিঘর’, ‘কেউ জানে না’ ও ‘নিঃশব্দপুর’ শিরোনামের গানগুলো প্রকাশিত হয়েছে।


শিরোনামহীনের ‘বাতিঘর’ প্রকাশ্যে, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সারপ্রাইজ
প্রকাশ্যে শিরোনামহীনের ‘জানে না কেউ’
