রাজধানীর পিলখানা (তৎকালীন বিডিআর সদরদপ্তর) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫৮ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বরাবর অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবার শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনা প্রধানসহ ৫৮ জনকে আসামি করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, বিডিআর বিদ্রোহ নয়, ৫৭ সেনা কর্মকর্তাকে পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিতে এ পদক্ষেপ বলেও জানান তারা।
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে হত্যার শিকার হন ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন। এ ঘটনায় ১৫ বছর পর বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ দায়ের করলেন নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবার। আসামি করা হয়েছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সামরিক সচিব তারেক আহমেদ সিদ্দিকী, সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদসহ ৫৮ জনকে।
স্বজনদের অভিযোগ, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ। ঘটনাটি বিডিআর বিদ্রোহ বলে সত্য আড়াল করা হয়েছে।
এ সময় হত্যার শিকার তৎকালীন বিডিয়ারের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে ব্যারিস্টার রাকিন আহমেদ, কর্নেল মুজিবুল হকের স্ত্রী ফেরদৌসী, কর্নেল কুদরত এলাহীর ছেলে সাকিব রহমানসহ ১৫-২০ জন নিহত পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
পিলখানায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নৃশংসভাবে খুন হওয়ার নেপথ্যে বিডিআর বিদ্রোহ নয় বরং বিষয়টি পরিকল্পিত ছিল বলে দাবী করেন কর্নেল মুজিবুল হকের স্ত্রী মেহরিম ফেরদৌসি।
মেহরিম ফেরদৌসি বলেন, ‘যারা পরিকল্পনা করে মেরে পুড়ানোর ব্যবস্থা করে। বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে ড্রেনে ফেলে। পরিবারদেরকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে কঠোর গার্ডে নেয় এবং বাচ্চাদেরকে বুট দিয়ে লাথি দিতে দিতে নিয়ে যায়। আপনরা অনেক কিছুই জানেন না যে, আমাদের সাথে কী হয়েছে।’
মেহরিম ফেরদৌসি বলেন, ‘এটাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলবেন? এর তদন্ত করলেই সত্যতা বের হয়ে আসবে এবং এটি জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। আমরা আজও জানি না কিংবা আমাদের সন্তানরাও জানে না কী কারণে উনাদের হত্যা করা হয়েছে। তাদের হত্যা করার জন্য কোনো একটি কারণ তো থাকতে হবে।’
নিহত পরিবারের অভিযোগ, সেনা ও বিডিআরকে দুর্বল করে দেশের সার্বভৌমত্ব সংকটের মুখে ফেলতে এ হত্যাকাণ্ড। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় যে কমিটি করতে চেয়েছে সেটি আন্তর্জাতিক মানে করার দাবি জানিয়েছে স্বজনরা।
প্রথম তদন্ত কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার হাসান নাসির বলেন, ‘আগের কমিশন ছিল সচিব পর্যায়ের। এবার কমিশন হতে হবে আরও উচ্চ পর্যায়ের। বিচারক থাকতে হবে, বিচার বিভাগীয় হতে হবে, সেখানে মানবাধিকার কর্মী থাকতে হবে, কেননা এটা কোনো আর্মড সংঘাত নয়। সুতরাং এটা মানবতার বিরোধী অপরাধ কি না সেটা জানার জন্য প্রয়োজনে বিদেশ থেকেও অভিজ্ঞদের নিয়ে আসতে পারি।’
বিডিআর হত্যা মামলায় ৫৫৮ জওয়ানকে সাজা দেয় বিচারিক আদালত। এর মধ্যে ১৫২ জনকে ফাঁসি এবং ১৬১ জনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে বিস্ফোরক আইনের মামলা এখনো ঝুলে আছে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে।



