বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব বেশ কিছু উদ্যোগও চোখে পড়েছে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের। তবে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিদ্যুৎ-জ্বালানি, রাজস্ব বোর্ড ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন খাতে গভীর সংস্কার জরুরি বলে মনে করছেন।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যবসা-বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। শত শত কারখানা বন্ধে চাকরি হারায় লাখো শ্রমিক। নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ১৮০ দিনের কর্মসূচি নেয় বিএনপির সরকার। গুরুত্ব পায় মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষা, খাল খনন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘এটা খুব ভালো উদ্যোগ যে যারা দরিদ্র তাদের আড়াই হাজার করে টাকা দেওয়া হচ্ছে। এবং এই বাজেটে আর্থিক যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে যেমন– নিত্যপণ্যে করছাড়, কিংবা ব্যবসা সহজীকরণের প্রণোদনা বিনিয়োগকেন্দ্রীক।’
ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী বলেন, ‘অর্থনীতি সচল রাখতে বিডা, এনবিআর সম্মিলিতভাবে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারলে এফডিআইকে আনা সম্ভব।’
বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল-আলম চৌধুরী জানান, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন, ৩ কৌশলে হাঁটলেও শুরু থেকেই সরকার বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের সংকটে পড়েছে। এতে জনজীবনে যেমন ভোগান্তি বেড়েছে তেমনি কমেছে শিল্প উৎপাদন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, সংকট এসেছে উত্তরাধিকারভাবেই। উত্তরণে আরও এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, গ্যাসকূপ খননসহ নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। জ্বালানির আমদানি নির্ভরতা কমাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাজেটে দেওয়া হয়েছে করছাড়।



