২০২৪ সাল ছিল বিশ্বজুড়ে নির্বাচনের বছর। এ বছর নির্বাচনী খবরগুলোর ওপর ব্যাপক প্রভাব ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের। যুক্তরাষ্ট্রের রিপবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টি—উভয়েই তাদের নির্বাচনী সমাবেশগুলো কাভার করার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রশংসা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তারকারা নির্বাচনের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারও নিয়েছেন এবং তাদের নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহেও ভূমিকা রেখেছেন।
সম্প্রতি মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চের এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, তারা এই গবেষণার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ২৮ হাজার কনটেন্ট পর্যালোচনা করেছেন, যার মধ্যে ৫০০ জন সোশ্যাল মিডিয়া ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ রয়েছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ বছরের কম বয়সী ৩৭ শতাংশ মার্কিনি বলেছেন, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের কাছ থেকেই খবর সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৫ শতাংশ ইনফ্লুয়েন্সার রয়েছেন এক্স প্ল্যাটফর্মে। এ ছাড়া ইনস্টাগ্রামে রয়েছেন ৫০ শতাংশ এবং ইউটিউবে রয়েছেন ৪৪ শতাংশ।
পিউ রিসার্চ আরও জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের মধ্যে ৬৩ শতাংশই পুরুষ। এদের ৭৭ শতাংশেরই কোনো মূল ধারার সংবাদমাধ্যম বা সংবাদ সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই।
কতজন মার্কিন নাগরিক ইনফ্লুয়েন্সারদের কাছ থেকে খবর সংগ্রহ করেন
পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের গ্রীষ্ম মৌসুমে তারা ১০ হাজার ৬৫৮ জন মার্কিন নাগরিকের ওপর জরিপ চালিয়েছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২১ শতাংশ বলেছেন, তারা নিয়মিত ইনফ্লুয়েন্সারদের কাছ থেকে খবর পান। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ইনফ্লুয়েন্সারদের কাছ থেক সমসাময়িক ঘটনা ও নাগরিক সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন। আর দশজনের মধ্যে সাতজনই বলেছেন, ইনফ্লুয়েন্সারদের কাছ থেকে পাওয়া খবর অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া খবরের চেয়ে কিছুটা আলাদা।
বেশির ভাগ ইনফ্লুয়েন্সার ‘এক্স’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন
সোশ্যাল মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সারেরা একাধিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলেও সবার কমন প্ল্যাটফর্ম এক্স। পিউ রিসার্চ বলছে, ইনফ্লুয়েন্সারদের ৮৫ শতাংশই এক্স ব্যবহার করেন। এ ছাড়া ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেন ৫০ শতাংশ। এ ছাড়া ২৭ শতাংশ ইনফ্লুয়েন্সার একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন।
জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারেরা তাদের ৩৪ শতাংশ কনটেন্ট পডকাস্টের মাধ্যমে এবং ২২ শতাংশ নিউজলেটারের মাধ্যমে প্রচার করেন। এদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ ইসফ্লুয়েন্সারই তাদের কনটেন্ট সাবস্ক্রিপশন বা অন্যান্য মাধ্যমে বিক্রি করে থাকেন।
বেশির ভাগ ইনফ্লুয়েন্সারই পুরুষ
পিউ রিসার্চের গবেষণায় দেখা গেছে, ইনফ্লুয়েন্সারদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩০ শতাংশ নারী। এদের মধ্যে বেশির ভাগই ডানপন্থী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। ফেসবুক ইনফ্লুয়েন্সারদের মধ্যে ৩৯ শতাংশই ডানপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন, যেখানে উদারপন্থীদের সংখ্যা মাত্র ১৩ শতাংশ।
টিকটক ইনফ্লুয়েন্সারেরা অন্যদের চেয়ে আলাদা
পাঁচটি প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, এক্স ও ইউটিউব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, টিকটকের ইনফ্লুয়েন্সারেররা অন্যদের চেয়ে খানিকটা আলাদা। সেখানে লিঙ্গ বৈষম্য কম। টিকটকে ৫০ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৫ শতাংশ নারী ইনফ্লুয়েন্সার রয়েছেন। টিকটকে ২৫ শতাংশ ডানপন্থী ইনফ্লুয়েন্সারদের উপস্থিতি দেখা গেছে। অন্যদিকে বামপন্থী দেখা গেছে ২৮ শতাংশ।
সংবাদ সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক নেই
গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৪ শতাংশ ইনফ্লুয়েন্সারই কোনো সংবাদমাধ্যম বা সংবাদ সংস্থার সঙ্গে কাজ করেননি। এ ছাড়া ৬৪ শতাংশ ইনফ্লুয়েন্সারের কোনো শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান নেই।
২০২৪ সালে ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রিয় বিষয় ছিল রাজনীতি ও নির্বাচন
পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, তারা ২০২৪ সালে তিনটি পৃথক সপ্তাহে ৫০০ জন ইনফ্লুয়েন্সারের সব পাবলিক পোস্ট বিশ্লেষণ করেছিলেন। প্রথমে ১৫–২১ জুলাই, এরপর ২৯ জুলাই–৪ আগস্ট এবং পরে ১৯–২৫ আগস্ট পর্যন্ত তারা কনটেন্টগুলো বিশ্লেষণ করেছে। এদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ কনটেন্ট ছিল রাজনীতি, সরকার বা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পর্কিত। এ ছাড়া ১৮ শতাংশ পোস্ট ছিল সামাজিক বিষয় সম্পর্কিত।



