‘মাস্টার্সের সময় আমি একটি হোস্টেলে থাকতাম। সেখানে আমাদের পেঁয়াজের স্লাইস খেতে দেওয়া হতো। আমি প্রতিদিন সেই পেঁয়াজে লেবুর রস এবং গোলমরিচ ছিটিয়ে খেয়ে নিতাম। লক্ষ্য করলাম, আমার ইমিউন সিস্টেম প্রতিনিয়ত ভালো হচ্ছে। আগের মতো ঘনঘন ঠান্ডায়ও আক্রান্ত হচ্ছি না। এমনকি যখন আমার রুমমেটরা ঠান্ডা-কাশিতে ভুগছে, তখনও আমি নীরোগ।’
কথাগুলো বলছিলেন বৃতি শ্রীবাস্তব। বর্তমানে ভারতের একটি হাসপাতালে পুষ্টিবিদ হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন বৃতি।
বৃতির মতো খাবার পাতে কয়েক টুকরা কাঁচা পেঁয়াজ সালাদ হিসেবে খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকের। আমাদের ঘরে ঘরে কাঁচা পেঁয়াজ যেমন খাওয়া হয়, রান্নায়ও তেমনি ব্যবহার হয়ে থাকে। কাঁচা হোক কিংবা রান্না করে, পেঁয়াজের সেবন স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো। স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজ পুষ্টি সরবরাহ করতেও সাহায্য করে।
বৃতি শ্রীবাস্তব বলেন, ‘পেঁয়াজ সালফার ও কোয়ারসেটিনে সমৃদ্ধ। কোয়ারসেটিনের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা দেহে প্রদাহের মাত্রা হ্রাস করতে সহায়তা করে। কাঁচা পেঁয়াজে আরও রয়েছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও সালফার। সালফার যৌগগুলো হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা ভালো রেখে রক্তের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। পেঁয়াজ খেলে তাই রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে।’
পেঁয়াজের মধ্যে থাকা বিভিন্ন উপকরণ শরীরের ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। ফাইবার কনটেন্ট থাকায় অন্ত্রের মধ্যে থাকা ‘গুড ব্যাকটেরিয়া’র জন্যও কাঁচা পেঁয়াজ উত্তম। খাবারে পেঁয়াজ থাকলে তা দ্রুত হজম হয়ে ওঠে।
পেঁয়াজের গুণ নিয়ে এখন আর সন্দেহ নেই আশা করি। কিন্তু তাই বলে প্রতিদিন পেঁয়াজ খাওয়া কতটা যৌক্তিক?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈহিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে প্রতিদিনকার খাবারের সঙ্গে অর্ধেক থেকে আস্ত পেঁয়াজ খাওয়া যেতেই পারে। তবে কারও কারও জন্য হজমে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে কাঁচা পেঁয়াজ; পেট ফাঁপা, বুক জ্বালাপোড়া, টক ঢেকুর বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স দেখা দিতে পারে। পাকস্থলীর অ্যাসিড পুনরায় খাদ্যনালিতে প্রবাহিত হলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স দেখা দেয়। এসব ক্ষেত্রে কাঁচা পেঁয়াজ এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
তাছাড়া সালফারের মতো উপাদান থাকায় পেঁয়াজে রক্ত পাতলা করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ফলে পেঁয়াজ রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে সহায়তা করে। তবে কেউ যদি ইতিমধ্যে রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্যে থাকেন, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পেঁয়াজ সেবন করাই শ্রেয়।
তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


লাল টমেটো ভালো, নাকি সবুজ?
