খেতে ইচ্ছা করে না, মুখে কিছু দিতে ভালো লাগে না, খাবারে অরুচি লাগছে- আশেপাশের অনেককেই আমরা এভাবে বলতে শুনি। কেউ কেউ আবার ওজন কমানোর জন্য ইচ্ছা করেই কোনো একবেলার খাবার ছেড়ে দেন।
আবার ঘুম থেকে দেরিতে ওঠার জন্য তাড়াহুড়ায় সময়ের অভাবে বহু মানুষ সকালের নাশতাটা না খেয়ে বেরিয়ে পড়েন। ফলে লম্বা একটা সময় তাঁদের না খেয়ে থাকা পড়ে। কিন্তু তাঁরা বোঝেন না, এতে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যকারিতারও ক্ষতি হয়ে থাকে।
আমাদের মস্তিষ্ক শক্তির প্রাথমিক উৎস হিসেবে গ্লুকোজের উপর নির্ভরশীল। আমরা যখন কোনো একবেলার খাবার বাদ দেই বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকি, রক্তে তখন শর্করার মাত্রা কমে যায়। আর রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া মানে গ্লুকোজেরও ঘাটতি। এতে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে চালিত হতে পারে না। মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, মুড সুইং বা মেজাজের দ্রুত পরিবর্তন ঘটে।
এই গ্লুকোজের ঘাটতি লম্বা সময়জুড়ে থাকলে কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণের প্রবণতা বাড়ে। ব্যক্তির মধ্যে মানসিক চাপ, বিরক্তি, উদ্বেগ দেখা দেয়। একেবারে তীব্র (এক্সট্রিম) পর্যায়ে মস্তিষ্ক জ্বালানির জন্য গ্লুকোজের পরিবর্তে কিটোনের ওপর নির্ভর করতে শুরু করে। এমন পরিবর্তনের ফলে ‘মেন্টাল ফগিনেস’ দেখা দিতে পারে।
এই উপসর্গে আক্রান্ত ব্যক্তির মানসিক দক্ষতা হ্রাস পায়, সে পরিষ্কারভাবে কোনোকিছু চিন্তা করতে পারে না; মেন্টাল ফগ মানুষের জ্ঞানের দক্ষতা হ্রাস করে স্নায়ুবিক ভারসাম্যকে ব্যাহত করতে পারে।
আরেকটি ব্যাপার লক্ষ্য করে দেখবেন, অনেকক্ষণ খালি পেটে থাকলে আমাদের মাথা ঘোরায় বা মাথা ঝিমঝিম করতে শুরু করে। এটি কেন হয়?
এর কারণ হলো হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা লো ব্লাড সুগার। গ্লুকোজের ঘাটতি কর্টিসোল এবং অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলো বারবার সংকুচিত এবং প্রসারিত হতে থাকে, তাতেই মাথাব্যথা দেখা দেয়। ডিহাইড্রেশন বা শরীরে পানির ঘাটতিও এই অস্বস্তিকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
কিন্তু আজকাল অনেককেই আমরা ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ করতে দেখি। প্রশ্ন জাগে তারা তাহলে কীভাবে লম্বা সময়ের জন্য না খেয়ে থাকেন? আসলে মাথা ঘোরানো বা দুর্বল বোধ ব্যতীতই কে কতক্ষণ না খেয়ে থাকতে পারেন, সেটি ব্যক্তিভেদে আলাদা।
তবে বিশেষজ্ঞরা দিনে প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই সময়সীমা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরকে প্রয়োজনীয় জ্বালানী সরবরাহ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬ ঘণ্টার বেশি না খেয়ে থাকলেই রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যেতে পারে; এতেই পরবর্তীতে শরীর দুর্বল হয়ে মাথাঘোরার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে ওজন কমাতে চাইলে সময়মতো খেতে হবে এবং প্রোটিন, জটিল কার্বোহাইড্রেট প্রভৃতির সুষম সমন্বয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে।
তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


কোন বয়সে কতটুকু লবণ খাবেন
দাঁতের অসুস্থতা কি মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে?
