আমাদের আশপাশে এমন অনেকেই আছেন, যারা পারকিনসন্স রোগে ভুগছেন। মস্তিস্কে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থের ঘাটতির কারণে এই রোগ দেখা দেয়। পারকিনসন্স রোগে ভুগলে একপর্যায়ে গিয়ে মানুষের কিছুটা স্মৃতিভ্রম হতে পারে। তবে স্মৃতিভ্রম অর্থাৎ ভুলে যাওয়া বা ডিমেনশিয়া সম্পূর্ণ আলাদা রোগ।
আমাদের মস্তিস্কে ‘ব্যাজাল গ্যাংলিয়া’ নামের একটি অংশ আছে। এটি মানুষের চলাফেরা এবং গতির সমন্বয় করে থাকে। এই ব্যাজাল গ্যাংলিয়ার ছোট একটা অংশ রয়েছে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘সাবস্ট্যানশিয়া নাইগ্রা’ বলা হয়।
মস্তিষ্কের এই অংশের স্নায়ুকোষ বা নিউরোন শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ডোপামিন নামক নিউরোট্রান্সমিটার (এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ) এর ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে মানুষের চলাফেরা এবং গতি অস্বাভাবিক হয়ে যায়। এতে মানুষ পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা এ.কে.এম. আরিফ উদ্দিন আহমেদ জানান, পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত ৬০ বছরের বেশি বয়স হয়। যেহেতু মানুষের সামগ্রিক আয়ু বাড়ছে, তাই ভবিষ্যতে পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়বে। এই রোগ বংশগতির সাথে সম্পর্কিত, তাই এ রোগে আক্রান্ত যে কারো থেকে অন্যদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। পুরুষদের তুলনায় নারীদের আক্রান্তের সম্ভাবনা কম থাকে। কীটনাশক এবং হার্বিসাইডের এক্সপোজার এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই রোগে আক্রান্তের পাঁচ শতাংশের ক্ষেত্রে জিনগত কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এছাড়া দশ শতাংশের মধ্যে পারকিনসনের লক্ষণ প্রবল থাকে। সেটিকে পারকিনসনিজম বলা হয়। স্ট্রোক, মস্তিস্কে সংক্রমণ, মস্তিস্কে আঘাত এবং উইলসন ডিজিজ-এ ধরনের রোগের ক্ষেত্রে পারকিনসনিজম হয়।
ডা এ.কে.এম. আরিফ উদ্দিন আহমেদের মতে, সাধারণত রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে হাঁটার সময় শরীরের এক হাতে কাঁপুনি হয়, যা মস্তিষ্কের ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক মোটর ফাংশনের সঙ্গে সম্পর্কিত। যখন প্রাথমিক লক্ষণগুলি দেখা দেয়, পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের ডোপামিন-উৎপাদনকারী কোষগুলির ৬০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ বা তার বেশি নষ্ট হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ মোটর ফাংশনের সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষণগুলির মধ্যে নিম্নলিখিতগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
১. হাত, বাহু, আঙুল, পা, চোয়াল বা মাথা কাঁপুনি হয়। বিশ্রামের সময়ও কাঁপুনি থাকে।
২. হাত পায়ের মাংসপেশি শক্ত হয়ে যায়, যে কারণে হাত পা দ্রুত নড়াচড়া করা যায় না। এর কারণে চলাফেরার গতি ধীর হয়ে যায়।
৩. হাতের কাঁপুনি ও আঙুল নড়াচড়া না করতে পারার কারণে হাত দিয়ে ঠিকভাবে লিখতে পারা যায় না।
৪. নিজের হাত দিয়ে খাবার খেতে অসুবিধা হয়।
৫. মুখের মাংসপেশির নড়াচড়ার ক্ষমতা কমে যায়। এতে কথা বলতে অসুবিধা হয়। কথা বলার সময় একটি কথা বলার পর কালক্ষেপণ বা দ্রুত গতিতে বলা হয়।


জন্মগত হৃদরোগের কারণ কী? প্রতিকারের উপায় কী হতে পারে
রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব কি খারাপ কিছু?
