মানিকগঞ্জ মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নারী রোগী ও তার স্বজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত নুর ইসলাম নামের এক আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৪র্থ তলার পুরুষ ওয়ার্ডের সামনে এই ঘটনা হয়।
অভিযুক্ত আনসার সদস্য নুর ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আহতরা হলো– মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আন্দারমানিক বেড়িকাটা এলাকার আল আমীন হোসেনের স্ত্রী শেফালী আক্তার (২৫) ও শেফালীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী মনি আক্তার (২৭)।
আহত মনি আক্তার বলেন, ‘শারীরিক দুর্বলতা ও ডায়াবেটিস জনিত সমস্যায় গতকাল শুক্রবার সকালে শেফালী আক্তারকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নিয়ে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। আজ দুপরের দিকে শেফালী তার নারী ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে হাঁটতে হাঁটতে পুরুষ ওয়ার্ডের সামনে বসানো খালি চেয়ারে বসে বিশ্রাম নেন। আনসার সদস্য নূর ইসলাম গিয়ে শেফালিকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এ সময় শেফালী আক্তারের সাথে নূর ইসলামের কথা কাটাকাটি হয়।’
মনি আক্তারের অভিযোগ, কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি এগিয়ে গেলে আনসার সদস্য ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এতে মনি আক্তারের হাত ও পায়ে জখম হয়। তখন শেফালী আক্তার প্রতিবাদ করলে আনসার সদস্য নুর ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে তার পেটে লাথি দিয়ে ফেলে দেন এবং মারধর করেন। পরে তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও স্বজনরা দ্রুত এগিয়ে আসে এবং তাদের উদ্ধার করে নারী ওয়ার্ডের ভর্তি করে। বর্তমানে তারা ওই হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত আনসার সদস্য নুর ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোগীসহ তাঁর স্বজনদের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। এ ঘটনায় রোগী ও তার স্বজনরা উলটো আমাকে মারধর করেছে।’
দোষ না থাকলে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি কেন দিল– এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর নুর ইসলাম দিতে পারেননি।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা আনসার ভিডিপির প্লাটুন কমান্ডার আবদুল কাদের মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আনসার সদস্য নুর ইসলামকে তার দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় নুর ইসলাম দোষী প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুঃখজনক ঘটনার বিষয়টি আনসার সদস্যদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাঁরা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার প্রমাণ হলে অভিযুক্ত আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



