পোশাকের জগতে ‘কুর্তা’ আর ‘কুর্তি’, দুই নামই পরিচিত। দেখতে এক রকম হলেও, এই দুটি পোশাকের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য। অনেকেই এই দুটিকে একে অপরের বিকল্প ভাবেন, কিন্তু ব্যবহারের দিক থেকে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিভেদ।
কুর্তা, ঐতিহ্যের ধারক
নারী ও পুরুষ, উভয়ের জন্যই কুর্তা একটি ঐতিহ্যবাহী পোশাক। সাধারণত এটি লম্বা, সোজা কাটের হয় এবং হাঁটু পর্যন্ত বা তার নিচ পর্যন্ত গিয়ে থাকে। পারিবারিক অনুষ্ঠান বা বিয়েবাড়িতে কুর্তা পরে গেলে স্বাচ্ছন্দ্য ও সৌন্দর্য, দুই-ই বজায় থাকে।
বিভিন্ন ধরনের চুড়িদার, পালাজ্জো, শারারা বা স্কার্টের সঙ্গে কুর্তা পরা হয়। বিশেষত সিল্ক, কটন বা হ্যান্ডলুম কাপড়ে তৈরি কুর্তাগুলোতে থাকে সূক্ষ্ম কাজ ও জমকালো ছাঁট। রুক্ষতা ছাড়াই এটি একটি নরম অথচ পরিপাটি লুক দেয়।
কুর্তি, আধুনিকতার সহজ প্রকাশ
কুর্তি হলো কুর্তার তুলনায় অপেক্ষাকৃত ছোট দৈর্ঘ্যের পোশাক, যা সাধারণত কোমর পর্যন্ত হয়। এর কাটিং বেশ ফিটেড ও স্টাইলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, অফিসে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার সময় কুর্তি পরা যায় অনায়াসে।
লেগিংস, জিন্স বা সিগারেট প্যান্টের সঙ্গে কুর্তি মানিয়ে যায় দারুণভাবে। ডিজাইনে থাকে বৈচিত্র্য—ফ্লেয়ারড, স্ট্রেইট, হাই-লো, এমনকি অ্যাসিমেট্রিকাল স্টাইলও। এটি হালকা-পাতলা, অথচ আধুনিক ছোঁয়াযুক্ত পোশাকের একটি সহজ উদাহরণ।
ঐতিহ্য বনাম আধুনিকতা
কুর্তার শিকড় খুঁজে পাওয়া যায় প্রাচীন পারস্যে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা উৎসব বা ফর্মাল পরিধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। অন্যদিকে, কুর্তি তুলনামূলক নতুন আবিষ্কার। নিত্যদিনের ব্যস্ত জীবনে আরাম ও স্টাইল দুটো বজায় রাখার জন্যই এর ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
যদি আপনার দরকার হয় জমকালো উৎসবে পরার মতো কিছু, তবে কুর্তা হোক আপনার পছন্দ। আর যদি খুঁজে থাকেন হালকা, ঝামেলামুক্ত, সহজ কিন্তু আধুনিক কিছু, তাহলে কুর্তি-ই সেরা। পোশাক যেমনই হোক, নিজের আরামটাই হোক সবার আগে।


করপোরেট নারীদের জন্য নতুন ফ্যাশন বার্তা দিলেন প্রিয়াঙ্কা
মায়ের পুরোনো শাড়িতে হবে আপনার স্টাইল স্টেটমেন্ট
