১৯০৪ সালে বিমানচালক আলবার্তো সান্তোস-দ্যুমঁর জন্য নকশা করা হয়েছিল একটি বিশেষ ঘড়ি। যা পুরুষদের হাতঘড়ির ইতিহাসে প্রথম। লুই কার্টিয়ারের এই নকশা শুধু সময় দেখার পদ্ধতিই বদলে দেয়নি। বদলে দিয়েছে ফ্যাশন ও স্টাইলের ধারণাও।
তখন পর্যন্ত পকেট ঘড়িই ছিল পুরুষদের মূল ভরসা। কিন্তু উড়োজাহাজ চালানোর সময় তা দেখা ছিল অসুবিধাজনক। দ্যুমঁর অনুরোধে লুই কার্টিয়ার তৈরি করেন বর্গাকার কেস ও হালকা বাঁকানো লগসহ একটি ঘড়ি। যা পরে ‘সান্তোস দে কার্টিয়ার’ নামে পরিচিত হয়। ১৯১১ সালে বাজারে আসার পর এটি হয়ে ওঠে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে বিক্রিত পুরুষদের হাতে পারার ঘড়ি।
প্রথম বিশ্বখ্যাত নকশা
সোথেবিজের তথ্যমতে, সান্তোস শুধু বিমানচালকদের জন্য নয়। বরং পকেট ঘড়ির পরিবর্তে হাতঘড়ি জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি উৎপাদন বন্ধ ছিল। ১৯৯৮ সালে সীমিত সংস্করণে ফিরে আসে, ২০০৪ সালে নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করে। আর ২০১৯ সালে নিয়মিত উৎপাদন মডেল হিসেবে বাজারে আসে।
জনপ্রিয় সংস্করণগুলো
মূল নকশার সঙ্গে সবচেয়ে কাছাকাছি রয়েছে ‘সান্তোস-দ্যুমঁ’ (১৯০৪ ও ২০১৯ সংস্করণ)। যেখানে বর্গাকার কেস ও নীল ক্যাবোশঁ পাথরসহ খাঁজকাটা ক্রাউন অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। আধুনিক রুচির সাথে মানানসই করতে আকার কিছুটা বড় করা হয়েছে। সেই সাথে পরিবর্তন আনা হয় ডায়ালের নকশায়ও।
২০১৮ সালের ‘সান্তোস দে কার্টিয়ার’ সংস্করণে যুক্ত হয়েছে ক্রাউন লক। বিশেষ নকশার বেজেল ও সামঞ্জস্যযোগ্য ধাতব ব্রেসলেট। এছাড়া ‘সান্তোস দে কার্টিয়ার স্কেলেটন’ ঘড়িটি খোলা নকশায় ভেতরের যান্ত্রিক অংশ প্রদর্শন করে। যা কার্টিয়ারের ঘড়ি তৈরির দক্ষতার এক অনন্য উদাহরণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সান্তোস দে কার্টিয়ার শুধু একটি ঘড়ি নয়। এটি ছিল পুরুষদের ফ্যাশনে এক নতুন যুগের সূচনা।


মেসির হাতে পিংক বার্বি রোলেক্স, দাম কত জানেন?
প্যাটেক ফিলিপ ঘড়ি নকল কিনছেন না তো?
