খাগড়াছড়িতে ১৪৪ ধারা জারির মধ্যে চলছে অনিদিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। অবরোধের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে খাগড়াছড়ি। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
পাহাড়ি কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় বিক্ষোভ ও সহিংসতায় রোববার গুইমারায় গুলিতে তিনজন মারা গেছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৩ সেনাসদস্য ও ৩ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন।
এ ঘটনার পর গুইমারা উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, জেলার সাথে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাঙামাটিসহ সারাদেশের সাথে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, পানছড়ি, মাটিরাঙাসহ ৯ উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
আজ সোমবার সকালে সরেজমিনে শহর ঘুরে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বাজার ও বাজারের আশপাশে কোনো দোকানপাট খোলেনি। প্রয়োজনীয় কাজে যাঁরা বের হচ্ছেন, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে নিরাপত্তা বাহিনী। শনিবার শুরু হওয়া অবরোধ তৃতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে।
জুম্ম ছাত্র-জনতার ফেসবুক পেজে মিডিয়া সেলের নামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ও সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষণ মামলার বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তার, পাহাড়িদের ওপর হামলার বিচার নিশ্চিত করাসহ আট দফা দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে, রোববার দুষ্কৃতকারীদের হামলায় ৩ জন পাহাড়ি নিহতের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, সংঘর্ষে মেজরসহ ১৩ সেনাসদস্য, গুইমারা থানার ওসিসহ ৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সে পর্যন্ত সব পক্ষকে ধৈর্য ধারণ এবং শান্ত থাকার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।
গত মঙ্গলবার রাত ৯টায় প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে ভুক্তভোগী পাহাড়ি কিশোরী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ। ওই দিন রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় একটি খেত থেকে তাকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা।



