নিউইয়র্ক সিটির নতুন তরুণ মেয়র জোহরান মামদানি এখন এক নামেই আলোচনায়। রাজনীতি থেকে ফ্যাশন, যেদিক থেকেই দেখি না কেন, তিনি ব্যতিক্রম। মাত্র ত্রিশের ঘরে বয়স। কিন্তু তাঁর সহজ-সরল পোশাক আর চিন্তাশীল উপস্থিতি যেন রাজনীতির গম্ভীর চেহারাটাকে অন্যরকম করে তুলেছে।
ঝলমলে টাই বা ভারী স্যুট নয়, মামদানিকে দেখা যায় সাদা বা হালকা রঙের বাটন-ডাউন শার্টে, স্ট্রিটওয়্যারের প্রভাব থাকা পোশাকে। তবে তাঁর সাজে একটা বিষয় সব সময় একই থাকে, তা হলো দুটি হাতেই থাকে চকচকে রুপার আংটি।
এই আংটিগুলো এখন তাঁর পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী প্রচারসভায়, জনতার ভিড়ে কিংবা মঞ্চের সামনে, যেখানেই যান, তাঁর আঙুলে ঝলমল করে এই আংটিগুলো।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, ‘এটাই আমি। মেয়র হওয়ার আগেও আমি এমনই ছিলাম। আর মেয়র হওয়ার পরও এমনই থাকব।’

এই কথার ভেতরেই যেন লুকিয়ে আছে, বাস্তব মানুষ হয়ে ওঠাই তাঁর পরিচয়। প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, ২০১৩ সালে তাঁর দাদার মৃত্যুর পর তিনি আংটি পরা শুরু করেন। সেটাই ছিল প্রিয়জনকে স্মরণে রাখার এক নিঃশব্দ উপায়।
ডান হাতের তর্জনিতে থাকা রুপার আংটিটি তাঁর পিতৃ দাদার থেকে পাওয়া উত্তরাধিকার। দাদা ২০০৭ সালে সিরিয়া ভ্রমণে গিয়েছিলেন, সেখান থেকেই আনা এই আংটি। ডান হাতের আরেকটি আংটি এসেছে তাঁর স্ত্রী, শিল্পী রামা দুওয়াজির কাছ থেকে, টিউনিসিয়া সফরের সময় কেনা। আর বাম হাতের অনামিকায় আছে সাদাসিধে এক বিয়ের আংটি।
রাজনীতির মঞ্চে পোশাক বা চেহারা যে বার্তা দেয়, তা অনেক সময় বক্তৃতার থেকেও বেশি শক্তিশালী। স্টাইল বিশ্লেষকদের মতে, মামদানির এই আংটিগুলো তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানেরই প্রতীক। তাঁর সহজ কাটিংয়ের জামাকাপড়, অনাড়ম্বর সাজ আর রুপার আংটিগুলো যেন তাঁকে আলাদা করে রেখেছে প্রচলিত করপোরেট রাজনীতিকদের কাঠামোবদ্ধ, কড়া সাজ থেকে।
রাজনীতি যেখানে প্রায়ই দূরের ও অপ্রাপ্য মনে হয়। মামদানির সহজ-সরল চেহারা যেন সেখানে মানুষকে একটু কাছে টেনে নেয়। এই আংটিগুলো তাই শুধু অলঙ্কার নয়, একটি বার্তা। যে ক্ষমতার ভেতরেও ভালোবাসা, সম্পর্ক আর শিকড়ের টান টিকে থাকে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই নেতা নিজেকে গর্বের সঙ্গে ‘ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট’ হিসেবে পরিচয় দেন। ইতিহাস গড়েছেন তিনিই, এক শতাব্দীর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম এবং সবচেয়ে তরুণ মেয়র হিসেবে।
বিজয় বক্তৃতায় তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ট্যাক্স ফাঁকির সুযোগ নেওয়া’র তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘আমি এই শহরটিকে আবারও ন্যায় ও সমতার প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলব।’
জোহরান মামদানির আংটিগুলো তাই কেবল সাজগোজের অংশ নয়। প্রতিটি আংটিতে লুকিয়ে আছে তাঁর উত্তরাধিকার, ভালোবাসা, বিশ্বাস আর সংগ্রামের ইতিহাস। একজন তরুণ নেতার নীরব কিন্তু দৃঢ় পরিচয়ের প্রতিচ্ছবি।


নব্বইয়ের ফ্যাশন ফিরিয়ে আনলেন এমা স্টোন
রাতের নিমন্ত্রণে সামান্থার মতো সেজে উঠতে পারেন আপনিও
