এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর একটি হচ্ছে দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসা। তিনি যে বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী এক ব্যক্তি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে তাঁর ফিরে আসা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই দেখা হচ্ছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বৃহস্পতিবার দেশের মাটিতে পা রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে এরই মধ্যে ঢাকায় বিশাল সংবর্ধনা আয়োজনের অনুমতিও পেয়েছে বিএনপি।
এমন এক সময়ে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন হচ্ছে, যখন বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদি বড় কোনো অঘটন না ঘটে, তবে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
অনেকেই মনে করেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কেমন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করা হবে, তা স্পষ্টভাবেই তুলে ধরেছেন তারেক রহমান। গত মে মাসে নির্বাচন ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কোনো ম্যান্ডেট ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের অধিকার আছে কি না।
তারেক রহমান পরিষ্কার করেই বলেছেন, বাংলাদেশ দিল্লি বা ইসলামাবাদের সঙ্গে অন্ধ ঘনিষ্ঠতার পথে যাবে না, বরং গুরুত্ব পাবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি। ঢাকার নয়াপল্টনে এক সমাবেশে তিনি ঘোষণা করেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।’
বিএনপির দাবি, শেখ হাসিনার শাসনামলে দলটির নেতাকর্মীরা ‘ফ্যাসিবাদ’ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গেও বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপির মতবিরোধ দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূলত বিএনপির চাপের মুখেই অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছে।
একসময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে নির্বাচনী জোট থাকলেও বর্তমানে চিত্র ভিন্ন। আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকায় তারেক রহমানের বিএনপিই এখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। রাজনৈতিক মাঠে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে এখন সামনে এসেছে জামায়াতে ইসলামী। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচন পেছালে বিএনপির ক্ষতিই সবচেয়ে বেশি। কেননা, জামায়াতে ইসলামী এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিকভাবে গুছিয়ে উঠতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।
নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে বগুড়া-৭ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্যদিকে তারেক রহমান প্রার্থী হচ্ছেন তাঁর পৈতৃক এলাকা বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনেই খালেদা জিয়া এই আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। এবারই প্রথম নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারেক রহমান।
চলতি মাসের শুরুতে এক সমাবেশে তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘শুধু গণতন্ত্রই আমাদের এই সংকট থেকে উদ্ধার করতে পারে, আর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিটি সদস্যই গণতন্ত্রের সেই ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে।’
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সপরিবারে দেশ ছাড়ার পর থেকে তিনি লন্ডনে বসবাস করছেন। সে বছর ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়ার আগে তিনি ১৮ মাস কারাবন্দী ছিলেন। এরপর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে চলে যান।



