শরীয়তপুরে একটি রোগী বহন করা অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা যাওয়ার পথে দুই স্থানে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন স্থানীয় চালকের বিরুদ্ধে। এ কারণে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে জমশেদ আলী ঢালী (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ মারা গেছেন।
মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসক ওই ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করেন।
জমশেদ আলী ঢালী শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকার মৃত সাহেব আলী ঢালীর ছেলে।
জমশেদ আলীর স্বজনেরা জানান, মঙ্গলবার সকালে জমশেদ আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা সংকটাপন্ন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে সাড়ে ৬ হাজার টাকায় স্থানীয় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন জমশেদ আলীর পরিবার। কিন্তু রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে উঠলেই ভাড়া ৮ হাজার টাকা দাবি করে চালক ও তাঁর সঙ্গে থাকা সহযোগীরা। পরে অন্য অ্যাম্বুলেন্সে যেতে চাইলে তাঁদের যেতে না দেওয়ায় অটোরিকশায় রোগী নিয়ে শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে ঢাকাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রওনা হন তাঁরা। কিছু দূর যাওয়ার পরে গাগড়ি জোড়া ও জামতলা এলাকায় দুটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্সচালক পারভেজ, সুমন, সজিবসহ সাত থেকে আটজন ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্সটি পর্যায়ক্রমে দুটিস্থানে আটকে দেন। স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার না করার কারণ দেখিয়ে তাঁরা চালককে মারধর করেন ও চাবি নিয়ে নেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে স্থানীয় চালকেরা পালিয়ে যান।
প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখার কারণে সঠিক সময় চিকিৎসা না পেয়ে জমশেদ আলী মারা যান বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. সালমান বলেন, ‘রোগীর স্বজনেরা আমার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। রওনা হওয়ার পর পারভেজ, সুমন, সজিবসহ সাত থেকে আটজন গাগড়ি জোড়া ও জামতলা এলাকায় দুইবারই আমাদের গাড়ি আটকে রাখে। আমাকে মারধর করে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি নিয়ে যায়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তাঁরা পালিয়ে যায়।’
জমশেদ আলীর নাতি জুবায়ের হোসেন ঢালী বলেন, ‘সাড়ে ৬ হাজার টাকায় ঢাকায় যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করি। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সে উঠলে স্থানীয় চালকসহ কয়েকজনের দাবি আট হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে তাঁদের অ্যাম্বুলেন্সে যেতে হবে। তাই অন্য অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া করে ঢাকা যাচ্ছিলাম। স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা আমাদের আটকে রাখার কারণে সঠিক সময় দাদার চিকিৎসা করাতে পারিনি। তাঁদের কারণে দাদার মৃত্যু হয়েছে। আমি তাঁদের বিচার দাবি করছি। বুধবার সকাল ১০টার দিকে দাদার দাফন করা হবে। দাফন শেষে থানায় গিয়ে মামলা করব।’
তবে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখা ও চালককে মারধরের বিষয়ে সুমন খান বলেন, ‘আমি কোনো গাড়ির কাছেই যাইনি। এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’
শরীয়তপুর অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই মোল্লা বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে যাঁরা জড়িত তাঁদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা উচিত। এর আগেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছে, যা কাম্য নয়।’
সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার খন্দকার রাশেদ আহাম্মেদ বলেন, ‘জমশেদ আলী মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ভর্তি হন।
অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় বেলা ১১টার দিকে ঢাকা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে তাঁর মৃত্যুর ব্যাপারে আমাদের জানা নেই।’
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



