একটি দল মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে এখন তাদেরই গায়ে হাত তুলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শুক্রবার বেলা তিনটায় লক্ষ্মীপুর সরকারি সামাদ স্কুল মাঠে ১০ দলের আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘একটি দল মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে এখন তাদের গায়ে হাত তুলছে। আমাদের মায়ের গায়ে হাত দেয়া হচ্ছে, নিজের মাকে সম্মান দেয়ার শিক্ষা যারা পাননি তারাই অন্যের মাকে অসম্মান করে। এর মাধ্যমেই বোঝা যায় তারা ক্ষমতায় গেলে কী করবে। সকালের সূর্য দেখলেই বোঝা যায় সারাদিন কেমন যাবে।’
চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘চাঁদাবাজরা বাজপাখির মতো কালো চেহারা ধারণ করে সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এর ফলে কৃষক, পরিবহণ মালিক এবং খুচরা ব্যবসায়ী– সবাই আজ ক্ষতিগ্রস্ত ও অতিষ্ঠ। বর্তমানে প্রশাসন যন্ত্রের অবহেলা বা কিছু ক্ষেত্রে ভাগ-বাটোয়ারার কারণে চাঁদাবাজি চললেও আগামীতে তা আর সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজ কার বাবা, কার মা বা কার সন্তান– তা দেখা হবে না। আমরা সেদিন হব নির্দয়, নিষ্ঠুর ও কঠোর। যারা রাজনীতি করবেন আবার চাঁদাবাজিও করবেন, তাদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘জুলাই হয়েছে বলেই আমরা কথা বলতে পারছি। জুলাই হয়েছে বলেই আমরা ভোট দিতে পারব। রাজার ছেলে রাজা হবে তা হতে দিতে পারি না। পরিবর্তনের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব। এ দেশে একজন রিকশাচালকও তার যোগ্যতায় এমপি-মন্ত্রী হতে পারবে।
শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সে বুক পেতে বলেছিল, বুক পেতেছি, গুলি কর। সে পালিয়ে যায়নি, বরং তার রক্ত আমাদের কাছে আমানত রেখে গেছে। এই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য ও ন্যায়বিচার, যা প্রতিষ্ঠা করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। ১২ তারিখেই ইতিহাস রচনা হবে আমার বাংলাদেশে।’
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা একিউএম মাস্টার রুহুল আমিন ভুঁইয়া। লক্ষ্মীপুর-১ আসনের (রামগন্জ) ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী (এনসিপি নেতা) মোঃ মাহবুব আলম। জেলা জামায়াতের আমির ও লক্ষ্মীপুর--২ (রায়পুর) আসনের জামাতের প্রার্থী একিউএম মাস্টার রুহুল আমিন ভুঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী ডা. রেজাউল করিম, লক্ষ্মীপুর-৪ (কমলনগর ও রামগতি) জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এআর হাফিজ উল্যাহ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা কমিটির সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।



