মন খারাপ করে ভেবেছি, কবে আমি আমার সন্তানদের বাবাকে বিক্রি করেছি: গুলতেকিন খান

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

নিজের লেখা বই প্রকাশ না করার পেছনের গল্প জানাতে গিয়ে আবেগঘন একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদের সাবেক স্ত্রী গুলতেকিন খান, সেখানে নিজের অভিজ্ঞতা, কষ্ট আর সিদ্ধান্ত সবকিছুই সরাসরি তুলে ধরেছেন তিনি।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি যখন গেল বার আমেরিকাতে তিন মাসের জন্যে যাই তখন কিছু ব‍্যাক্তিগত স্মৃতি ফেইসবুকে শেয়ার করি, আমি অবাক লক্ষ্য করি যে অনেক পাঠক-পাঠিকা সেগুলো বেশ আগ্রহ নিয়ে সেগুলো পড়েন এবং পছন্দও করেন। তখন একজন প্রকাশক (আমাদের বেশ ঘনিষ্ঠ) আমাকে জানান যে তিনি ওগুলো বই আকারে প্রকাশ করতে ইচ্ছুক।’

এরপর পরিবারকে ঘিরে লেখালেখির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি, আমার ভাই-বোন, মা-বাবা, দাদা (প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ), ছেলে-মেয়েদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে থাকি। আমার খুব ভালো লাগে লিখতে! আমি একসময় বাংলাদেশের কিংবদন্তী কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, আরো কিছু বিশেষন থাকা ভদ্রলোকের সাথে ২৮ বছর বিবাহিত ছিলাম! ২৮ বছরকে হয়তো দীর্ঘ বলা যায়!’ এরপরই বলেন, ‘স্বভাবতই আমার কিছু লেখাতে তাঁর কথাও উঠে আসে।’

একটি লেখাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘একটি লেখায় তাঁকে নিয়ে দুঃখজনক একটি অভিজ্ঞতার কথা উঠে আসে। কিছুক্ষণের মধ‍্যেই নানারকম মন্তব্যে আমার পাতা ভরে যায়! তাদের কিছু আমার পক্ষে আর কিছু আমার লেখার বিপক্ষে!’

সবচেয়ে কষ্টের মন্তব্যটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটি মন্তব্য আমাকে খুব আঘাত করে, ‘আর কতদিন (আমার পাঁচ সন্তানের বাবার নাম) তাঁকে বিক্রি করে খাবেন? আমি পোস্টটি সরিয়ে ফেলি। এবং পরের কয়েকদিন আর কোনো কিছুই লিখিনা। মন খারাপ করে নিজের ঘরে বসে ভাবি, কবে আমি আমার সন্তানদের বাবাকে বিক্রি করেছি? সপ্তাহ দুয়েক পর আবার লেখা শুরু করি। তবে ফেইসবুকে লেখা পোস্ট করি না।’

প্রকাশকের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘‘প্রকাশকের সাথে বসে কথা বলি। বই এর নাম আগেই আমার ঠিক করা ছিলো—‘আমার কিছু কথা আছে, ভোরের বেলার তারার কাছে’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বসন্ত’ গীতিনাট‍্যের একটি গানের অংশ। এই গীতিনাট‍্যটি আমাদের স্কুলে মন্চস্থ করা হয়েছিল। গানের সাথে আমিও ছিলাম। আলাদা করেও একটি গান গেয়েছিলাম। কিংবদন্তি শিল্পী সানজিদা খাতুনের ছোট মেয়ে, রুচিরাও গান গেয়েছিলো। সে একই ক্লাসে আমাদের সাথে পড়ত।’’

এরপর নিজের উপলব্ধির কথা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘আমি সবগুলো লেখা তৃতীয় বারের মতো পড়লাম। প্রতিটি লেখাই বেশ ভালো লাগে আলাদাভাবে। তবে একসাথে, বই আকারে পড়তে গেলে, কেমন যেনো খাপছাড়া লাগে। আমি মনে মনে ঠিক করলাম কি করলে বই আকারে পড়তে ভালো লাগবে! বেশ কিছু কাজ করা লাগবে, আমাকে! মনে হলো বই মেলাকে টার্গেট করে ছাপানো উচিত হবে না।’

প্রকাশক ফিরে আসার পরের পরিস্থিতি বর্ণনা করে তিনি লিখেছেন, ‘উনি দু’তিন দিন পরে যখন এলেন, তখন নুহাশও বাসায় ছিল। লেখাগুলোর বেশ কয়েকটি কপি করা হয়েছিল। নুহাশ আমাদের সাথে এসে বসলো এবং বললো, ‘লেখাগুলো ভালো হয়েছে। কিন্তু যাঁরা এই বই কিনবেন তাঁরা প্রথমেই তাঁর বাবাকে (ওখানে ওঁর বাবাকে একটিই লেখা ছিলো যেটি বিতর্ক সৃস্টি করতে পারে। বাকি সবই ছিল ছোট ছোট সুখস্মৃতি) নিয়ে লেখা গুলো আগে পড়বেন! তোমার স্মৃতি নিয়ে কারো তেমন আগ্রহ থাকবেনা। পাঠকদের পছন্দ না হলে তা নিয়ে আলোচনা হবে ফেইসবুকে! মা, তুমি কি সেসব মন্তব্য পড়ে ঠিক থাকবে?’’

 তিনি লিখেছেন, ‘আমি রাত জেগে ভাবলাম, এই সামান্য একটি লেখাকে কেন্দ্র করে এতো মানুষের মন্তব্য? এই মানুষগুলো লেখককে এতো ভালোবাসেন! এই মানুষগুলোর বয়স সম্ভবত আটাশ থেকে আটাত্তুর বছর! তাঁরা আমার সন্তানদের বাবাকে ভালোবাসেন! তাঁদের কেউ কেউ কিশোর বয়স থেকে তাঁর লেখা পড়ে, নাটক দেখে আসছেন। আমি তো তাঁদের মনে আঘাত দিতে পারি না! তিনি কতজন কিশোরীর সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িত ছিলেন সেটা তাঁর ব‍্যক্তিগত জীবনের কথা। আমি স্ত্রী হিসাবে যেভাবে তাঁর পাশে ছিলাম, অন‍্য যে কোনো মেয়েও তাই করতো বা করতেন। শুনেছি মানুষের মনে আঘাত দেওয়া আল্লাহ পছন্দ করেন না!’

ক্ষমার প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘তিনি যে বছর সবাইকে ছেড়ে চলে গেছেন, সে বছরেই আমি হজ্জ পালন করি এবং তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছিলাম, আমার সাথে করা সব অন‍্যায়ের জন‍্যে! ক্ষমা অনেক আগেই করেছিলাম। ক্ষমা না করলে আমি সন্তানদের নিয়ে এগিয়ে যেতে পারতাম না!’

সবশেষে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘সে রাতেই ঠিক করলাম যে আমার বইটি ছাপাবো না। তাঁর অসংখ্য ভক্তদের মনে আঘাত দেয়ার অধিকার আমার নেই!’

প্রকাশকের উদ্দেশে লেখা বার্তায় তিনি বলেন, ‘প্রিয় ফরিদ ভাই, আমার জীবনে অনেক দুর্ঘটনা ঘটার পরও আমি কখনো কান্নাকাটি করিনি। সন্তানদের নিয়ে সামনের দিকে হেঁটেছি। আমার তিন মেয়ে জড়াজড়ি করে কেঁদেছে তবু বন্ধুদের সাথে শেয়ার করেনি। আমি সারাজীবন সামনের দিকে এগিয়ে চলেছি, এখন আর পেছনের দিকে তাকাতে চাই না। আমার ঘটনা সব সত্যি তবে এগুলো ছাপাতে চাই না এখন। আপনার এপর্যন্ত যত টাকা খরচ হয়েছে সব দিয়ে দিতে চাই। জানি আপনি বই ছাপাতে চাননি, সত্যকে সামনে আনতে চেয়েছেন। আমি ক্ষমা চাইছি, আমাকে মাফকরে দিন, প্লিজ!’

মাঝেমধ্যেই চলচ্চিত্রকার ও কথসাহিত্যিক হ‍ুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে স্মৃতির গভীরে ডুব দেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী গুলতেকিন খান। আজও তেমনই এক আবেগঘন স্মৃতি সামনে আনলেন তিনি।
কাজ করতে গিয়ে হ‍ুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে অনেক বিচিত্র অভিজ্ঞতা রয়েছে এই অভিনেতার। রয়েছে অসংখ্য আনন্দ-বেদনার স্মৃতি। লেখক কিংবা নির্মাতা বাইরে একজন মানুষ হিসেবেও হ‍ুমায়ূন আহমেদকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন...
রম্যনির্ভর চলচ্চিত্র নয় নম্বর বিপদ সংকেত মুক্তি পায় ২০০৭ সালে। এতে অভিনয় করেন আসাদুজ্জামান নূর, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, তানিয়া আহমেদ, দিতি, ফারুক আহমেদ প্রমুখ
দেশের গুণী দুই অভিনেতা মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরী। একসঙ্গে তারা বহু কাজ করেছেন টিভি নাটকে। অভিনয় করেছেন ‘টেলিভিশন’ নামের চলচ্চিত্রেও। এই দুই মহারথীকে আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে বড় পর্দায়। না, চমকের...
এক মাস পর পণ্য রপ্তানি আবার কমল। গেল মে মাসে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৭ শতাংশ। বুধবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
এডিসের মারাত্মক ঝুঁকিতে দেশের চার জেলা- ঢাকা, বরিশাল, নরসিংদী ও কক্সবাজার। এখানে ব্রুটো ইনডেক্সে এডিসের লার্ভার ঘনত্ব ৭৬ থেকে ৯৩ পর্যন্ত মিলেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গবেষণায় মিলেছে...
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী কারামুক্ত হয়েছেন। বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের চলচ্চিত্র ‘রইদ’ এবার মুক্তি পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ৬টি শহরে। আগামী ৫ জুন থেকে দেশটির বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে এ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী শুরু...
লোডিং...

এলাকার খবর