দশ বছর পর আবারও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ইবোলা ভাইরাস। ২০১৬ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মহামারির সমাপ্তি ঘোষণা করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর ঠিক এক দশক পর আবারও এই ভাইরাসের জন্য জারি হলো বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা।
গবেষণা বলছে, সুস্থ হওয়া ব্যক্তির শরীরে বছরের পর বছর সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে ভাইরাসটি। ফলে এটি পরবর্তীতে ফের সক্রিয় হয়ে নতুন করে প্রাদুর্ভাব ঘটাতে সক্ষম।
প্রায় ৫০ বছর ধরে আফ্রিকায় আতঙ্কের আরেক নাম ইবোলা ভাইরাস। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স’। এটি প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো), যা তখন পরিচিত ছিল জাইর নামে।
জন্মলগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত ইবারোলার প্রকোপে সবেচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে ডিআর কঙ্গোকে। ১৯৭৬ সাল থেকে এপর্যন্ত ১৬ বার ইবোলা ভাইরাসের কবলে পড়েছে দেশটি। চলতি বছর ১৭তম সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ডিআর কঙ্গোর পর উগান্ডাতে সংক্রমণ শনাক্তের পর বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
কঙ্গোর উত্তরাঞ্চলে ‘ইবোলা’ নদীর তীরে প্রথম এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ওই নদীর নামেই ভাইরাসটির নামকরণ করা হয়। ভাইরাসটি ‘ফিলোভিরিডি’ পরিবারের সদস্য, যার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তীব্র জ্বর।
এ পর্যন্ত ইবোলার ছয়টি ধরন বা প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। সেগুলো হলো-জাইর, সুদান, বুন্ডিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি।
ফলখেকো বাদুড়কে ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই বাদুড় নিজে ইবোলায় আক্রান্ত হয় না। কেবলমাত্র ভাইরাসটি বহন করে। আক্রান্ত মানুষের প্রত্যক্ষ ও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে ইবোলা ছড়ায়।
এমনকি গবেষণা বলছে, ভাইরাসটি সুস্থ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শরীরে বছরের পর বছর সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে, যা পরবর্তীতে হঠাৎ সক্রিয় হয়ে নতুন করে প্রাদুর্ভাব ঘটাতে সক্ষম।
বর্তমানে ইবোলার 'জেইর' প্রজাতির জন্য ভ্যাকসিন রয়েছে, তবে 'বুন্ডিবুগিও' প্রজাতির জন্য এখনো কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন নেই। এ প্রজাতির সংক্রামণে মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।



