টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যমুনা সেতুর কাছে রড বোঝাই ট্রাক উল্টে হতাহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মানুষের চুল ও ভাঙা মোবাইল ব্যবসায়ী ছিলেন। তারা নোয়াখালী জেলার চৌমুহনী এলাকায় চুল ও ভাঙারি মোবাইল ফোন ফেরি করে কেনাবেচা করতেন। ঈদ উপলক্ষে এসব মানুষ ফেনী জেলার মহিপাল থানা এলাকায় বাড়িতে যাচ্ছিলেন। বাস ভাড়া বেশি হওয়ায় কম টাকায় রডভর্তি ট্রাকে উঠে বাড়ি যাচ্ছিলেন।
আজ সোমবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার জোকারচর (সরাতৈল) এলাকায় রড বোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫জন নিহত ও ১০ জন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
তারা হলেন– নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাড়ী গ্রামের সাকিম মিয়ার ছেলে মো. সাগর মিয়া (২০), একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), নিয়ামতপুর উপজেলার মালঞ্চী গ্রামের সাইদুলের ছেলে সারিকুল (২০), রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার বাতানপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার নজরুল ইসলাম (৬০) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের মামুন (৪৫)|
আহত শেখ রতন জানান, তারা ফেনী শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন। সেখানে অকেজো মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন পার্লার থেকে চুল ক্রয়–বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঈদ উপলক্ষে তারা সকলেই একসাথে বাড়ি যাচ্ছিলেন। বাসে ভাড়া বেশি হওয়ায় জনপ্রতি সাড়ে ৫শ’ টাকায় রড বোঝাই ট্রাকে উঠে বাড়ি যাচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, ভোড়ে হঠাৎ করেই ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে গেলে আমি ছিটকে অনেক দূরে পড়ে যাই। অন্যরা রডের নিচে চাপা পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন এসে আমাদের কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, চট্রগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা একটি রড বোঝাই ট্রাক যাত্রী নিয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাওয়ার সময় ট্রাকটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এসময় ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে উল্টে খাদে পড়ে যায়।
তিনি জানান, এতে ট্রাকে থাকা যাত্রীরা রডের নীচে চাপা পরে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ১০ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠান|
আহতরা হচ্ছেন– নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ডেমরা গ্রামের মজিবরের ছেলে বাবু (৩৫), শহিদুলের ছেলে সমেজ (২১), হোসেনপুর গ্রামের আব্দুল রহিমের ছেলে আব্দুল রহমান (৩৫), দশপাড়া গ্রামের নজরুলের ছেলে তুহিন (২৪), পাকুরিয়া গ্রামের সফেদ আলীর ছেলে আলমগীর (৪০), ছোরহাব আলীর ছেলে সিদ্দিক আলী (৪০), রাজেন্দ্রবাড়ী গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে খোরশেদ (২৬), নাটোরের গুরুদাশপুর গ্রামের মৃত মান্নানের ছেলে নয়ন বিশ্বাস (২২) এবং পাবনা জেলার আমিনপুর উপজেলার নওয়াবাড়ী গ্রামের আতোয়ারের ছেলে শেখ রতন (৩৫)| নিহতদের মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে আহতদের টিকৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা ও নিহতেদর পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।



