বান্দরবানের রুমা ও থানচির তিনটি ব্যাংকে হামলা ও ডাকাতির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংগৃহীত এই ফুটেজে থানচিতে ব্যাংক লুটে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) কয়েকজন সশস্ত্র নারী সদস্যকেও ডাকাতিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। ইতিমধ্যে তিনজনকে শনাক্তও করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে মনে হবে এ যেন কোন সিনেমার স্যুটিং। কিন্তু বাস্তবের এই ঘটনা বান্দরবানের থানচিতে ব্যাংক লুটের। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে।
ফুটেজে দেখা যায়, গত ৩ এপ্রিল দুপুরে হুট করেই দুটি ব্যাংকে হামলা চালায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। তাদের পরনে সামরিক বাহিনীর আদলে তৈরি পোশাক। হাতেই স্বয়ংক্রিয় আধুনিক অস্ত্র।
হামলাকারীদের মধ্যে অস্ত্র হাতে দেখা যায় বেশ কয়েকজন নারীকে। যাদের মধ্যে তিনজনকে সনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অস্ত্রের মুখে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ গ্রাহকদের জিম্মি করে লুটপাট চালাতে দেখায় যায় এসব সন্ত্রাসীদের।
গত ২ ও ৩ এপ্রিল ব্যাংকে হামলার ঘটনায় রুমা থানায় ৫টি এবং থানচিতে ৩টি মামলা হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে কুকি চিনের সদস্যসহ ৫৩ জনকে। যাদের মধ্যে ১৮ জনই নারী।
গত ২ এপ্রিল রাতে তারাবি নামাজের সময় বান্দরবানের রুমা শাখা সোনালী ব্যাংক ও আশেপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে শতাধিক সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মসজিদ থেকে ব্যাংক ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে ধরে নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে মারধর করে তারা। পরে তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এ সময় ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ১০ পুলিশ ও ৪ আনসার সদস্যকে নিরস্ত্র করে ৮টি চাইনিজ অটোমেটিক রাইফেল, ২টি এসএমজি, ৪টি শটগান ও ৪১৫ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় ২ পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনার পরদিন থানচিতে আরও দুটি ব্যাংকে ডাকাতি হয়।
৪ এপ্রিল রাতে অপহৃত সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা নেজাম উদ্দিনকে রুমা বাজার থেকে উদ্ধার করে র্যাব। এর পরপরই থানচি থানা থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনেন স্থানীয়রা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই গোলাগুলি চলে।
স্থানীয়রা বলছেন, থানচি থানার পাশে প্রথম গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পরে তা থানচি বাজারের কাছে চলে আসে। এ সময় কেএনএফ সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময় হয়। পুলিশ জানিয়েছে, থানায় হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে তারা প্রায় ৫০০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই ওইদিন মধ্যরাতে আলীকদমের ২৬ মাইল ডিম পাহাড় এলাকায় যৌথবাহিনীর চেক পোস্টে হামলা হয়। সবগুলো ঘটনার সঙ্গেই কেএনএফ জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এরপর থেকেই পার্বত্য অঞ্চলে অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। অভিযানের মধ্যে গত রোববার কেএনএফের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক চেওশিম বমকে বান্দরবানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করার তথ্য জানায় র্যাব–১৫।
সংশ্লিষ্ট খবর:
কেএনএফের সঙ্গে আলোচনা বন্ধের ঘোষণা শান্তি কমিটির
‘রুমায় অপহৃত সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার ভালো আছেন’
এনজিও থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী কেএনএফ
দুই বছর আগে ব্যাংক লুটের ঘোষণা দিয়েছিল কুকি–চিন
অক্ষত আছে রুমার সোনালী ব্যাংকের ভল্টের টাকা
ব্যাংক লুটের আগে ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছিল ডাকাতরা
যেভাবে লুট হলো রুমার সোনালী ব্যাংক
রুমার পর এবার থানচিতে ২ ব্যাংকে ডাকাতি
বান্দরবানে সোনালী ব্যাংকে লুট, ম্যানেজার অপহরণ