গাজায় আসলে কতসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে?

আপডেট : ১২ মে ২০২৫, ০১:৫১ পিএম

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কত মানুষ মারা গেছেন, তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। যেহেতু যুদ্ধটি এখনো শেষ হয়নি, তাই মৃতের সংখ্যা গণনা করা আসলেই কঠিন। তবে বিশেষজ্ঞরা চেষ্টা করছেন প্রকৃত সংখ্যা নিরূপনের। নতুন একটি গবেষণা বলছে, মৃতের সংখ্যা যত বলা হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক কম হতে পারে।

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর মাঝে মাঝে থেমে থেমে হামলা চালালেও গত ৭১ দিন ধরে একটানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। আজ সোমবারও জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের ফাতিমা বিনতে আসাদ স্কুলে হামলা চালিয়ে শিশুসহ ১৫ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। ফলে প্রতিদিনের মৃতের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা আসলেই কঠিন।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও নিহতের প্রকৃত সংখ্যা জানানো হয় না। শুধু হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ফিলিস্তিনি নিহতের বিস্তারিত তথ্য দেয়। ফলে একপাক্ষিক পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর এক ধরনের প্রবণতা রয়েছে হামাসের।

তবে অতীতে ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংঘাত শেষ হওয়ার পর দেখা যেত, নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইসরায়েল ও জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য প্রায় কাছাকাছি।

এবারের ইসরায়েল ও গাজার সংঘাত আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী। গাজার হাসপাতালসহ মৃতের সংখ্যা গণনাকারী অনেক প্রতিষ্ঠানই ইসরায়েল গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

গাজায় প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৫ মে পর্যন্ত গাজাযুদ্ধে ৫২ হাজার ৬১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন আর কতজন হামাস যোদ্ধা রয়েছেন, তা তারা আলাদাভাবে উল্লেখ করেনি। গত জানুয়ারিতে ইসরায়েল বলেছিল, নিহতদের মধ্যে ২০ হাজার হামাস যোদ্ধা রয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দুটি উৎস থেকে মৃতের তথ্য নিয়ে থাকে। একটি হচ্ছে, হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য এবং আরেকটি হচ্ছে, অনলাইনে বিভিন্ন মানুষের দেওয়া মৃতের তথ্য।

লন্ডনভিত্তিক চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী ল্যানসেট সম্প্রতি একটি গবেষণায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি উৎসের তালিকার পাশাপাশি তৃতীয় আরেকটি তালিকা পরীক্ষা করেছেন। সেটি হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত শোক সংবাদ থেকে পাওয়া বিস্তারিত তথ্য। তিনটি তালিকাতেই মৃতদের নাম, বয়স ও লিঙ্গ অন্তর্ভুক্ত ছিল। কারও কারও আইডি নম্বরও ছিল। স্বাধীন তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন যে, মন্ত্রণালয়ের দুটি তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা প্রায় নিশ্চিতভাবে মারা গেছেন।

গবেষকরা মন্ত্রণালয়ের সরকারি মৃতের সংখ্যা উপেক্ষা করেছেন। এর পরিবর্তে তাঁরা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য গ্রহণ করেছেন এবং তিনটি তালিকার মধ্যে সামঞ্জস্য পরীক্ষা করেছেন।

গবেষকেরা বলছেন, তালিকাগুলোর মধ্যে মৃতের সংখ্যা নিয়ে মিল খুবই কম, ববং মৃতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি মন্ত্রণালয়ের সংখ্যার চেয়ে ৪৬–১০৭ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দেখানো হয়েছে।

নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিপুল অনিশ্চয়তা এখনো রয়েছে। তালিকাগুলোতেও ভুল থাকা অস্বাভাবিক নয়। যুদ্ধের একেবারে শুরুর দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি তালিকার একটিতে ৩ হাজার ৯৫২ জন নিহতের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা পরবর্তীতে বাদ দিয়েছে তারা।

আবার কোনো কোনো গবেষকের মতে, হামাসের তরুণ যোদ্ধাদের নাম তালিকাগুলোতে নাও থাকতে পারে। কারণ হামাস তাদের নিজস্ব ক্ষয়ক্ষতি কম দেখাতে চাইতে পারে। সেক্ষেত্রে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হবে। কত মানুষ যে শুধু চিকিৎসার অভাবে মারা গেছে, তার কোনো হিসাব নেই। সংখ্যাটি সম্ভবত হাজার হাজার হবে।

সুতরাং গাজা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কত জন মানুষ মারা গেছে, তার প্রকৃত সংখ্যা জানা সত্যিই কঠিন। এমনকি যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও এর প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত অজানাই থেকে যাবে।

নিবন্ধটি দ্য ইকোনমিস্ট থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন মারুফ ইসলাম

সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তির কথা ছিল—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সবার ওপর হামলা হিসেবে দেখা হবে। কিন্তু চুক্তি...
নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় ঘটে গেল শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ও নৃশংস এক আকস্মিক বিপর্যয়। কয়েক মিনিটের তাণ্ডবে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩২ জনেরও বেশি মানুষ, আর নিখোঁজ অন্তত দেড় হাজার, যার অর্ধেকই...
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। শুধু এক দিনেই দেশের কয়েকটি জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জনের বেশি মানুষ। প্রতি বছর শত শত মানুষের মৃত্যু হয় বজ্রপাতের কারণে।...
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে প্রাথমিক চুক্তি সই হয়েছে। শুক্রবার থেকেই খুলছে হরমুজ প্রণালি। আর এতেই ওলটপালট হয়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি। বড় ধাক্কা...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বলেছেন, সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম ও উৎসব পালনের শতভাগ অধিকার দিয়েছে। তাই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনে কোনো দুশ্চিন্তা বা শঙ্কার...
রক্তস্নাত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রসংস্কারের যে অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে...
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
লোডিং...
পঠিত নির্বাচিত

এলাকার খবর