ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়ে পশ্চিমা নেতারা নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা করছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন পশ্চিমা নেতারা। গাজায় আগ্রাসন বন্ধে ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক বৃদ্ধি, কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো জোড়ালো পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন তারা।
ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও পর্তুগাল। ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।
তবে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পশ্চিমা নেতারা নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা করছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ফিলিস্তিনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো সীমানা না থাকায় বহু বছর ধরে সেখানে আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরায়েল। এই পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়াকে প্রতীকী বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের কাছ থেকে পাওয়া অস্ত্র দিয়েই গাজায় আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরায়েল। ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোকে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রির লাইসেন্স দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। গাজায় হামলা চালাতে সেসব অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে আইডিএফ। ইসরায়েলের এফ-থার্টি ফাইভ যুদ্ধবিমানের প্রায় ১৫ শতাংশ যন্ত্রাংশ ব্রিটিশ কোম্পানির তৈরি।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধের প্রাথমিক মাসগুলিতে ইসরায়েলে সামরিক রপ্তানির জন্য কমপক্ষে ২১ মিলিয়ন ডলারের নতুন লাইসেন্স অনুমোদন দেয় কানাডা। তবে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর থেকে নতুন কোনো অনুমোদন দেয়া হয়নি।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে ১ লাখ রাউন্ড মেশিনগান গোলাবারুদ সরবরাহ করে ফ্রান্স। তবে ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর ইসরায়েলে অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধ করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এ বছর ইসরায়েলের কাছে পৌঁছানো যায় এমন গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে এফ-সিক্সটিন যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
এমন পরিস্থিতিতে গাজায় আগ্রাসন বন্ধ করতে হলে ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক বৃদ্ধি, কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো জোড়ালো পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ বিশ্লেষকদের।



