ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে বিএনপি। আগামী মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার কথা। প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা কেমন হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে সব মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তরুণদের মধ্য থেকে কে কে স্থান পাচ্ছেন এবং শরিক দলের নেতারাও থাকছেন কি না—তা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনারও শেষ নেই। অবশ্য বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো মন্ত্রিসভার আকার বা এতে কারা থাকছেন, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার আকার ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার তুলনায় অনেকটাই ছোট হতে পারে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গঠন ও আকৃতিতে পরিবর্তন এনে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৩০-এর নিচে নামিয়ে আনতে পারে বিএনপি। নতুন মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে নবীন ও প্রবীণের মিশেলে। এতে বিএনপির জোটে থাকা শরিক দলগুলোর বেশ কয়েকজন নেতারও দেখা মিলতে পারে।
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া তারেক রহমান মন্ত্রিসভার আকার ছোট রাখার কথা ভাবছেন। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেসব মন্ত্রণালয় ভেঙে আলাদা করা হয়েছিল, সেগুলোর কয়েকটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হতে পারে। আবার একই ধরনের কাজ করে এমন কিছু মন্ত্রণালয়কে একত্র করার বিষয়টিও বিএনপি ভেবে দেখছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেল বিভাগ একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে আসতে পারে। নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তত ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী থাকতে পারেন বলে ধারণা দিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। এর বাইরে অন্তত ১২ জন প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী রাখা হতে পারে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতাকে উদ্ধৃত করে বিবিসি বাংলা বলছে, এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ প্রবীণদের পাশাপাশি মেধাবী তরুণদেরও বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন কম বিতর্কিত এবং আগে মন্ত্রণালয় পরিচালনায় সফল হয়েছেন এমন অভিজ্ঞরা। অন্যদিকে, উপমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে অভিজ্ঞতা নেই কিন্তু মেধাবী—এমন নেতাদের।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, হাফিজ উদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ আরও বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে।
নারীদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের নামও আছে আলোচনায়। তরুণদের মধ্যে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও ইশরাক হোসেনের নাম বিবেচনা করা হচ্ছে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী হিসেবে। এ ছাড়া নিজ দল ছেড়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করা ববি হাজ্জাজ ও শাহাদাত হোসেন সেলিমের নামও আছে তালিকায়।
বিএনপির শরিক দলগুলো থেকে নিজ প্রতীকে নির্বাচন করে জয়লাভ করেছেন তিন নেতা। তাঁরা হলেন—বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর। এই তিনজনই মন্ত্রিসভায় ডাক পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারণী নেতারা।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে যাঁরা মন্ত্রিসভায় থাকছেন না, তাঁদের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে জায়গা পেতে পারেন। শোনা যাচ্ছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হতে পারে।


দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে এর আগে কে কী করেছিল?
