ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই সংরক্ষিত নারী আসন ছিল আলোচনায়। বিশেষ করে বিএনপি জোট থেকে কারা সংসদে যাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ছিল নানা পর্যালোচনা। প্রতি ৬টি আসনের বিপরীতে ১টি করে সংরক্ষিত আসনের হিসাবে বিএনপি জোটের ভাগে পড়ছে ৩৬টি আসন। সোমবার এই আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে বিএনপি।
এই মনোনয়নে যোগ্যতার প্রতিফলন কতটা হলো?
গত ১৫ বছর ধরে রাজপথে বিএনপির নানা আন্দোলনে দলের অনেক নারী নেত্রী জেল-জুলুম এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এবারের মনোনয়নে সেই ত্যাগ ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিএনপির।
মনোনয়ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তালিকায় তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেত্রী এবং যাঁরা দলের দুঃসময়েও সঙ্গে ছিলেন, তাঁরাই প্রাধান্য পেয়েছেন। তবে এর বাইরেও কি কিছু নেই? গুঞ্জন আছে, জোটের শরিকদের সন্তুষ্ট করতে এবং পেশাজীবীদের মধ্য থেকে দক্ষ প্রতিনিধি নিশ্চিত করতে বিএনপিকে বেশ কিছু কৌশলী সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
কারা আছেন এই তালিকায়?
ত্যাগী নেতৃত্ব: মনোনয়ন পাওয়াদের মধ্যে শীর্ষ সারির নেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা এবং রেহানা আক্তার রানু। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করছেন। এর আগেও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা আছে তাঁদের।
রাজপথের লড়াকু মুখ: রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় এবং বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় থাকা নেত্রীদের মধ্যে স্থান পেয়েছেন হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুন রায় চৌধুরী, সুলতানা আহমেদ এবং শাম্মী আক্তার। এ ছাড়া নেত্রী সাকিলা ফারজানা ও বিলকিস ইসলামের নামও রয়েছে তালিকায়।
সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রতিনিধিত্ব: অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির প্রতিফলন হিসেবে এই তালিকায় রয়েছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। যেমন: আন্না মিনজ, মাধবী মারমা এবং সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর)।
তালিকায় আরও যাঁরা রয়েছেন: নেওয়াজ হালিমা আরলি, ফরিদা ইয়াসমিন, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, ফাহমিদা হক, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।
এর মধ্যে সানজিদা ইসলাম তুলি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সরাসরি নির্বাচন করেছিলেন। তবে ভোটে জয় পাননি। এবার সংরক্ষিত আসনেও এই মানবাধিকারকর্মীকে মনোনয়ন দিল বিএনপি।
অলঙ্কারিক পদ বনাম কার্যকর ভূমিকা
প্রায় ৪ দশক আগে ‘যায়যায়দিন’ পত্রিকা এই সংরক্ষিত আসনকে ‘সংসদের অলঙ্কার’ বলে বিদ্রূপ করেছিল। এবারের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী এমপিরা কি সেই তকমা মুছতে পারবেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি যেহেতু এখন সরকারে, তাই এই নারী এমপিদের দায়িত্ব অনেক বেশি। তাঁরা কেবল সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নয়, বরং নারী অধিকার এবং দেশের নীতিনির্ধারণে কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন—সেটাই হবে তাঁদের বড় পরীক্ষা।



