ভারতের ‘তেলাপোকারা’ এবার রাজনীতিতে?

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

একটি মাত্র সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, আর তাতেই কেঁপে উঠল ভারতের রাজনীতি। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের মুখে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হলো দিল্লির ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকার। পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মোদি সরকারের শিক্ষামন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করার পর এবার কি সরাসরি ভারতের রাজনীতিতে আসছে ককরোচ পার্টি? নাকি পর্দার আড়াল থেকেই কাঁপাবে দিল্লির মসনদ?

যেভাবে শুরু আন্দোলন

গল্পের শুরুটা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে। চলতি বছরের মে মাসে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু অভিযোগ ওঠে ব্যাপক প্রশ্নফাঁসের! শুধু তা-ই নয়, সরকারি চাকরিতে নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি আর লাগামহীন বেকারত্বের জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভারতে। দিল্লি থেকে মুম্বাই—সব পথ এসে মেশে রাজপথে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল তিনটি:

১. প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
২. সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার।
৩. প্রাণ হারানো শিক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক সাহায্য।

টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর গত শনিবার আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। নরেন্দ্র মোদি সরকার নতিস্বীকার করে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। একে আন্দোলনকারীরা অভিহিত করছেন গণতন্ত্রের জয় হিসেবে।

কে এই অভিজিৎ দিপকে?

কিন্তু এই আন্দোলনের রূপকার কে? কীভাবে নাম হলো ককরোচ জনতা পার্টি? গল্পের পেছনে রয়েছেন ৩০ বছর বয়সী তরুণ অভিজিৎ দিপকে। ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ মে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়, যেখানে অভিযোগ ওঠে তিনি বেকার তরুণদের তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছেন—যদিও পরবর্তীতে বিচারপতি জানান, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। তবে এই মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন অভিজিৎ দিপকে।

মূলত সেই মিম থেকেই গড়ে ওঠে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। দিল্লিভিত্তিক ইউটিউবার মেঘনাদ এস ও তাঁর সহযোগীরা এআইয়ের সাহায্যে সিজেপির একটি ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট তৈরি করেন। কিছুদিনের মধ্যেই সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অনুসারী সংখ্যা পৌঁছে যায় আড়াই কোটিতে।

এ বছরের জুনের শুরু পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অবস্থান করছিলেন অভিজিৎ। সেখান থেকে সোজা দেশে ফিরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে এক দরিদ্র দলিত পরিবারে জন্ম নেওয়া অভিজিতের বাবা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন, আর দাদা ছিলেন কৃষক। দলিত পরিচয় তাঁর রাজনৈতিক ভাবনায় গভীর প্রভাব ফেলে। ২০২০ সালে তিনি আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া টিমে কাজ করেছিলেন, যেখানেই মিম ও ব্যঙ্গ ব্যবহার করে বার্তা পৌঁছানোর কৌশল তিনি রপ্ত করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও তিনি দেশের রাজনীতিতে সব সময় সক্রিয় ছিলেন। নিজের ও পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে তিনি বোস্টন থেকে ভারতে ছুটে আসেন।

রাজনীতির ময়দানে নতুন জল্পনা

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং সরকারের সব দাবি মেনে নেওয়া নিশ্চিতভাবেই সিজেপির জন্য এক বিশাল জয়। তবে এখন মূল প্রশ্ন—এরপর কী? এই তরুণ নেতারা কি এবার পূর্ণকালীন রাজনীতিতে প্রবেশ করছেন? সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হন সিজেপির দুই অন্যতম মুখ সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না—এই প্রশ্নে আশুতোষ রাঙ্কার উত্তর ছিল অত্যন্ত কৌশলী। তিনি বলেন, ‘আজকের ভারতে কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অন্তত আমার সেটাই মনে হয়।’ তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, টানা দুই মাস বাড়ির বাইরে থাকার পর এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য বাড়ি ফিরে বিশ্রাম নেওয়া।

অন্যদিকে আরেক মুখপাত্র সৌরভ দাস এখনই সরাসরি রাজনীতিতে নামার সম্ভাবনা কিছুটা নাকচ করেছেন। তাঁর মতে, ভারতে ৭৫০ থেকে ৮০০ মূলধারার রাজনৈতিক দল থাকা সত্ত্বেও তারা যুবসমাজের আশা পূরণ করতে পারেনি। তাই সিজেপির বর্তমান লক্ষ্য এই তরুণ আন্দোলনকে একদম তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা যুবকদের দাবি পূরণে বাধ্য হয়। আর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে স্পষ্ট করেছেন, সরকার লিখিতভাবে সব দাবি না মানা পর্যন্ত তারা অবস্থানমঞ্চ ছাড়ছেন না। যদিও সিজেপি সরাসরি নির্বাচনে অংশ নাও নেয়, তবুও এর নেতাদের স্বতন্ত্রভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।

মোদি সরকারের ওপর চাপ এবং প্রভাব

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের মতে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে এটিই ছিল রাজপথে তরুণদের সবচেয়ে বড় স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিজেপি সরকার যখন মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য সামাজিক ইস্যু নিয়ে ভোটারদের সেন্টিমেন্ট নিজেদের পক্ষে রাখার চেষ্টা করছে, তখন এই যুব আন্দোলন তাদের জন্য ছিল এক বিরাট রাজনৈতিক ধাক্কা। অভিজিৎ দিপকের ভাষায়, এই আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক আলোচনার প্রচলিত ধারা বদলে দিয়েছে—যেখানে দেশের তরুণরা এতদিন প্রধান আলোচনার বাইরে ছিল।

ব্যঙ্গ ও মিম থেকে শুরু হওয়া এক প্রতিবাদ আজ ভারতের রাজনীতির সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি কি ভবিষ্যতে ভারতের রাজনীতিতে নতুন শক্তি হয়ে উঠবে, নাকি আন্দোলন শেষেই থামবে তাদের যাত্রা—তা সময়ই বলে দেবে।

দীর্ঘ দুই বছর পর ফের বাংলাদেশিদের পর্যটন বা ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করেছে ভারত। রোববার থেকেই শুরু হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়া। কিন্তু এবার আর আগের নিয়মে ভিসা পাওয়া যাবে না। বদলে গেছে অ্যাপয়েন্টমেন্টের...
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির তরুণদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আর এই ক্ষোভ থেকেই জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি।...
সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তে ভারতের বিএসএফ জোয়ানরা হঠাৎ করেই ২৮ জন মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবির বাধায় দলটি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে খোলা...
দেড় দশকের বেশি সময় পর বদলের পথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি বসছে বাংলার মসনদে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই পরিবর্তন কি শুধু ভারতের...
একটি রোমান্টিক গান। চার দশক আগে লেখা হয়েছিল ভালোবাসার আবহে। অথচ ২০২৬ সালের এই শ্রাবণে সেই গানই হয়ে উঠেছে শিক্ষিকাদের প্রতিবাদের ভাষা। ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানটি ব্যবহার করে গত দুই দিনে...
সাতক্ষীরার তিনটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শন করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত দুই চিকিৎসককে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত...
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ঢুকে পড়েছে। এতে অন্তত ১ জন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
অবৈধ আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন বা ভিওআইপি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হাজারো সিম শনাক্ত হওয়ার পর রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক, টেলিটক ও গ্রামীণফোনকে মোট ৮ কোটি ৬৮ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিটিআরসি। সবচেয়ে...
লোডিং...

এলাকার খবর