অনেক স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছর কাজের সন্ধানে লাখো মানুষ পাড়ি জমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। তবে বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়ার শুরু থেকে কর্মস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত নানা হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হন অনেকেই। এমনকি দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থায় হয়রানির শিকার হতে হয় বেশিরভাগ প্রবাসীর। প্রবাসীদের এসব সমস্যা দূর করতে এবার প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কার্ডের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন ও সরকারি হাসপাতালে বিশেষ সেবাসহ প্রায় ১০ রকমের সুবিধা পাবেন প্রবাসীরা।
দেশে-বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার ও বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে কমপ্লিমেন্টারি মিট এন্ড গ্রিট সেবা, বিমানের টিকেট ও হোটেল বুকিংয়ে ডিসকাউন্ট, দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূলে গাড়ি বুকিং ও সিগনেচার কার্ডে এয়ারপোর্ট পিক এন্ড ড্রপ সেবা, সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ ও বেসরকারিতে ডিসকাউন্ট সুবিধা, কার্ডধারীর মৃত্যুতে বিনা খরচে মরদেহ পরিবহন, প্রবাস ফেরতদের পুনর্বাসনের সুযোগ ও বীমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুবিধাও থাকবে এই কার্ডে।
প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ড ইস্যু করা হবে। জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবর রহমান জানান, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এই কার্ড দিয়ে বিকাশ, নগদসহ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে অর্থ লেনদেন করা যাবে। আসছে আগস্ট মাসে প্রথম ধাপে ৫০ হাজার নারী কর্মী দিয়ে এই সেবা চালু হবে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবাসী কার্ডের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপর। প্রবাসীরা যাতে সহজে রেমিট্যান্স পাঠানোর পাশাপাশি সরকারি সেবা দ্রুত পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে যাদের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটি কার্ড আছে, তাদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ড দেওয়া হবে।



