একটি রোমান্টিক গান। চার দশক আগে লেখা হয়েছিল ভালোবাসার আবহে। অথচ ২০২৬ সালের এই শ্রাবণে সেই গানই হয়ে উঠেছে শিক্ষিকাদের প্রতিবাদের ভাষা। ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানটি ব্যবহার করে গত দুই দিনে ফেসবুকে রিলস পোস্ট করেছেন দেশের বিভিন্ন জেলার হাজারো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
এই ডিজিটাল প্রতিবাদের সূচনা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালকে ঘিরে। হালকা বাতাসে আঁচল উড়িয়ে হাঁটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর একাংশের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এরপরই তার পাশে দাঁড়াতে শুরু করেন সহকর্মীরা।
একই গান ব্যবহার করে শিক্ষিকারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, কর্মস্থল কিংবা ব্যক্তিগত পরিবেশে ধারণ করা ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করছেন। তাদের বক্তব্য, শিক্ষকতার পরিচয়ের বাইরে একজন শিক্ষকেরও ব্যক্তিগত জীবন, অনুভূতি ও সৃজনশীল প্রকাশের অধিকার রয়েছে। সেই স্বাধীনতাকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ।
শিক্ষিকা সামিয়া শিকদার লিখেছেন, ‘বিউটি রাণী পাল ম্যাডামকে হেনস্তার চেষ্টা সফল হয়নি। আজ প্রতিটি সাহসী শিক্ষকই একেকজন বিউটি রাণী পাল। আমরা মাথা নত করব না, সম্মান নিয়ে এগিয়ে যাব।’
কুমিল্লার শিক্ষিকা লায়লা নূর পিংকি লিখেছেন, ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে’ গানের ভিডিওর কারণে দেশবাসী অন্তত কিছুটা হলেও লায়লা, মামুন আর চাচাদের কটাক্ষপূর্ণ ভিডিও থেকে মুক্তি পেয়েছে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষকরা কিছুটা হলেও ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।
আরেক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল এই প্রতিবাদ প্রমাণ করে দিল, যেখানেই অন্যায় হবে সেখানেই শিক্ষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানাবে। আমাদের এই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। সমালোচনা করুন, তবে তা হোক যৌক্তিক। আজাইরা সমালোচনার ফল তো দেখলেন? হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো সব শিক্ষকই বেরিয়ে এলেন। যেসব শিক্ষক কোনো দিন ভিডিও দিতেন না, তারাও সাহস করে সামনে এসেছেন। আগামীকাল থেকে আবার আমাদের শ্রেণিকক্ষেই দেখা হবে।’
প্রতিবাদে অংশ নিয়ে পঞ্চগড়ের শিক্ষিকা ফেরদৌস লিখেছেন, ‘এরপর শাড়ি পরেই দিব শিক্ষকের সেই ভাইরাল নাচ!’
চট্টগ্রামের মতলব বাজারের শিক্ষিকা জয়ন্তী ভৌমিক প্রশ্ন তুলেছেন, ‘শিক্ষক যদি হাসেন, সমস্যা! সাজেন, সমস্যা! পরিপাটি থাকেন, সমস্যা! ভ্রমণে যান, সমস্যা! ছবি পোস্ট করেন, সমস্যা! তাহলে কি শিক্ষক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ হওয়ার অধিকারটাও জমা দিতে হবে?’
উল্লেখ্য, ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানটি ১৯৮৭ সালের এক শ্রাবণে খুলনায় লিখেছিলেন গীতিকার ও সুরকার আশরাফ বাবু। দীর্ঘদিন পর এবার আরেক শ্রাবণে গানটি নতুন পরিচয়ে ফিরে এসেছে—প্রেমের গান থেকে এটি এখন শিক্ষকদের সংহতি ও প্রতিবাদের প্রতীক।


তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ২ চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ
