ডাক্তাররাও চিকিৎসা নিতে বিদেশে যান!

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

আপনি কি জানেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ঠিক কত মানুষ চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যান? সরকারি গবেষণা আর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংখ্যাটা বছরে প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ। এমনকি বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়াদের মধ্যে অন্তত ৫ শতাংশই চিকিৎসক। এই বিশালসংখ্যক রোগী বিদেশে গিয়ে বছরে খরচ করছেন প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৬০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমাদের দেশেই কি ভালো হাসপাতাল নেই? বড় বড় চিকিৎসক নেই? কেন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর মানুষের এই চরম আস্থার সংকট? চলুন এর কারণগুলো জেনে নেওয়া যাক।

কারা এবং কেন যাচ্ছেন?

পরিসংখ্যান বলছে, বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের সবচেয়ে বড় অংশ—প্রায় ৫১ শতাংশই যান পাশের দেশ ভারতে। এ ছাড়া ২০ শতাংশ যান থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো—বিদেশে যাওয়া রোগীদের ৫২ শতাংশের বেশি কিন্তু বড় কোনো অপারেশনের জন্য যান না। তাঁরা যান শুধুই রোগনির্ণয় বা রুটিন হেলথ চেকআপের জন্য। রোগের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ক্যানসার ও হৃদরোগ। এরপরই আছে কিডনি, চোখের সমস্যা, হাড়ের জটিলতা এবং প্রজননজনিত বিভিন্ন সমস্যা।

আর এই তালিকায় যে শুধু ধনী ব্যক্তিরা আছেন, তা কিন্তু নয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিদেশগামী রোগীদের ২৫ শতাংশ ব্যবসায়ী আর ১২.৫ শতাংশ বেসরকারি চাকরিজীবী। এমনকি দিনমজুর, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং ৫ শতাংশ চিকিৎসকও রয়েছেন এ তালিকায়। ভাবুন তো একবার! দেশের ৫ শতাংশ চিকিৎসক নিজেই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। ঢাকার অদূরে এক তরুণের পায়ের হাড়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় দেশের হাসপাতাল পা কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু ভারতে গিয়ে সঠিক চিকিৎসায় তাঁর পা না কেটেও তিনি এখন সুস্থ। এই একটি ঘটনাই বলে দেয়—সমস্যাটা আসলে কোথায়।

আস্থার সংকট ও ভেতরের কারণ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ কিন্তু শখ করে বিদেশে যায় না। এর পেছনে রয়েছে সামাজিক ও কিছু বাস্তব কারণ:

১. আস্থার চরম সংকট ও সময়ের অভাব: দেশে রোগীরা চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন—ডাক্তাররা ঠিকমতো কথা শোনেন না, সময় দেন না। ফলে রোগীরা নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারেন না।

২. ভুল রোগনির্ণয় ও ডায়াগনস্টিকের মান: আমাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর রিপোর্টের ওপর মানুষের আস্থা কম। অনেক সময় দেখা যায়, রোগ শনাক্ত করতেই কয়েক মাস পার হয়ে যায় বা ভুল চিকিৎসা শুরু হয়।

৩. ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের অভাব: বিদেশে গিয়ে রোগী একই ছাদের নিচে টেস্ট থেকে শুরু করে ডাক্তার দেখানো—সব এক দিনে পেয়ে যান। কিন্তু আমাদের দেশে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতেই রোগীর নাভিশ্বাস উঠে যায়।

৪. ওষুধ ও চিকিৎসার খরচ: শুনলে অবাক হবেন, ভারতে গিয়ে অনেক ক্যানসার বা জটিল রোগের চিকিৎসা করা এ দেশের চেয়েও সাশ্রয়ী! কারণ ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে ক্যানসারের ওষুধ তৈরি করে, আর আমাদের তা আকাশছোঁয়া দামে আমদানি করতে হয়।

স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগত দুর্বলতা

কিন্তু আমাদের দেশের স্বাস্থ্য খাত কেন বিশ্বমানের হয়ে উঠতে পারছে না? এর পেছনে প্রধান ৪টি কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা:

১. বাজেটে চরম অবহেলা: বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির গড় বরাদ্দ ৩.৯ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশে এই বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ২.৩৪ শতাংশ—যা পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন! যেখানে মালদ্বীপ বা নেপালও আমাদের চেয়ে অনেক বেশি খরচ করে।

২. দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট: যেটুকু বরাদ্দ পাওয়া যায়, সেখানেও রয়েছে প্রকিউরমেন্ট বা কেনাকাটার বড় বড় সিন্ডিকেট। দুর্নীতির কারণে সেই বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষ পায় না।

৩. চিকিৎসকদের রাজনৈতিক বিভক্তি: বিএমএ, স্বাচিপ কিংবা ড্যাব—চিকিৎসকদের পেশাগত সংগঠনের নাম করে দলাদলি আর বদলি-পদোন্নতির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার কারণে অনেক মেধাবী চিকিৎসকও সেবায় মন দিতে পারেন না।

৪. লাগামহীন বেসরকারি হাসপাতাল: সরকারি অব্যবস্থাপনার সুযোগে ব্যাঙের ছাতার মতো মানহীন প্রাইভেট ক্লিনিক গড়ে উঠেছে, যেখানে সেবা নেই কিন্তু খরচের হাত ধরে সাধারণ মানুষের পকেটের ৬৭ শতাংশ টাকাই বেরিয়ে যায়।

উত্তরণের উপায় ও করণীয়

তাহলে এই সংকট থেকে বের হওয়ার উপায় কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাধান সম্ভব। প্রথমত, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বরাদ্দ বাড়াতে হবে এবং দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসা সেবাকে ঢাকা-কেন্দ্রিক না রেখে সীমান্ত ও গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। তৃতীয়ত, সরকারি পড়ে থাকা ভবন ও হাসপাতালগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে কম খরচে মানসম্মত সেবার সুযোগ করতে হবে।

এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের দেশের ভিআইপি, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও আমলাদের বিদেশে না গিয়ে দেশের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও কিন্তু শীর্ষ নেতারা নিজ দেশের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে চিকিৎসা নেন। দেশের ভিআইপিরা যখন দেশের হাসপাতালে আস্থা রাখবেন, সাধারণ মানুষের আস্থাও তখন ফিরে আসবে।

অসুখ-বিসুখ বলে-কয়ে আসে না। আজ যদি আমরা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে না ফেলি, তবে অচিরেই বিদেশে যাওয়া রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়াবে এবং দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বাইরে চলে যাবে।

মুক্তিপণের জন্য অপহৃত নিলয় শিকদার নামে এক যুবককে শিকলবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করেছে র‍্যাব। আজ রোববার র‌্যাব-১০-এর কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।
ফেনীর দাগনভূঞার সিলোনিয়া বাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারী–শিক্ষার্থীদের ওপর বাস উঠে গিয়ে ফাতেমা আক্তার সুরাইয়া (১২) নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সিলোনিয়া বাজার...
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ায় তাঁর সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ (ঠাকুরগাঁও সদর) শূন্য হতে যাচ্ছে। আর সেই আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র...
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৩ জন। হাসপাতালে ভর্তি ৮০৫ জন, যা একদিনে আক্রান্তের রেকর্ড। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর