ডিজেল সংকটে সেচ কাজ ব্যাহত হওয়ায় বিপাকে জামালপুরের বোরো চাষিরা। সেচ পাম্প চালানোর জন্য চাহিদামাফিক ডিজেল পাচ্ছেন না তাঁরা। বলছেন, প্রয়োজনীয় তদারকি নেই। একই অভিযোগ গোপালগঞ্জের চাষিদেরও। সেচের অভাবে ফলন নিয়ে শঙ্কায় তাঁরা।
এক একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন জামালপুর সদরের চরযথার্থপুরের প্রান্তিক কৃষক আব্বাস। জানান, সেচের অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে বোরোর মাঠ। পাম্প চালানোর জন্য চাহিদামাফিক ডিজেল পাচ্ছেন না তিনি।
একই অবস্থা জেলার অধিকাংশ কৃষকের। তাঁদের অভিযোগ, ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও, কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রায় খালি হাতে। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ খুচরা বাজার থেকে চড়া দামেই কিনছেন ডিজেল।
কৃষকেরা বলছেন, ডিজেলের অভাবে সেচকাজ ব্যাহত হওয়ায় জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে না। তেল নিতে গেলে পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন ‘তেল দেওয়া যাবে না।’
জেলা প্রশাসন বলছে, কৃষকদের জ্বালানি নিশ্চিতে স্পষ্ট সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। আইন অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
জামালপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম আবদুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, ‘কৃষকেরা কী পরিমাণ ফুয়েল পাবে সেটি নিয়ে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। কেউ যদি তা ভায়োলেশন করে, তার প্রেক্ষিতে যদি কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ জানায়। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’
জামালপুরের মতো একই হাহাকার গোপালগঞ্জেও। ‘তেল নেই’ অজুহাতে জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন দিনের পর দিন বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে।
হাতেগোনা দু-একটি পাম্প খোলা থাকলেও চাহিদামত জ্বালানি তেল মিলছে না। শূন্য হাতে ফিরছেন অনেক কৃষক। তাঁরা বলছেন, ধানে পানি দেওয়ার জন্য সেচ দরকার। তেলের অভাবে সেচকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
গোপালগঞ্জ কৃষি বিভাগ বলছে, গরম ও ঝড়ো হাওয়ায় ধান গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই ফলন রক্ষায় নিয়মিত সেচ এখন অপরিহার্য।
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, পানির অভাবে ফসলের ওপরের দিকের পাতা কিছুটা শুকিয়ে আসছে। মোকাবিলায় কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।



