বরগুনার পাথরঘাটায় বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষে প্রার্থীসহ ৩০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জনকে পাথরঘাটা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত চারজনকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা গোলাম কবির ও এনামুল হোসাইনের সমর্থকদের মধ্যে উপজেলার কাটাখালী এলাকায় প্রথম সংঘর্ষ বাদে। পরে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাথরঘাটা পৌর শহরে আবারো দুই পক্ষের মধ্যে আরও কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়।
আহতরা হলো– দেয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী এনামুল হোসাইন, যুবলীগ নেতা ফয়সাল আহম্মেদ, মো. সোলাইমান, শাহ আলী, সবুজ গাজী, তানভীর আহম্মেদ, ছাত্রলীগ নেতা মো. আহাদ, মো. রাকিব, রুবেল মিয়া, হাসান রাব্বি প্রমুখ।
পুলিশের হাতে আটককৃতরা হলো– নাঈমুল ইসলাম (২৯), মো. মনির হোসেন (৩০), মো. মিজান (২৫), মো. ইব্রাহীম (২৫), শাহাদাৎ (২৪), আবু মুছা (২৬), মো. হাবিবুর রহমান (২৫), মো. শান্ত (২৩) ও মো. খোকন (৩৮)।
আহত চেয়ারম্যান প্রার্থী এনামুল হোসাইন বলেন, ‘নির্বাচন শুরু থেকেই কাকচিড়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টুর ছেলে রাজন আহম্মেদ কাপ-পিরিচ প্রতীকের পক্ষ নিয়ে আমার লোকজনকে ভয়ভীতি প্রদার্শন করছে। তাঁরা আমার প্রচার অফিস ভাংচুর করেছে। গতকাল আবারো তাঁরা মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে আমার কাকচিড়া ইউনিয়নের নির্বাচনী প্রচার অফিস ভাংচুর চালায়। খবর পেয়ে আমি কিছু কর্মী নিয়ে সেখানে গেলে আমার ওপরে হামলা করে রাজন। আমাকে কুপিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত জখম করে। পরে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে আমাকে পাথরঘাটা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।
এ বিষয়ে অপর প্রার্থী মোস্তফা গোলাম কবির বলেন, ‘বিকেলে কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে আমার ও এনামুলের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির সময় একটু হাতাহাতি হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা মিটমাট করে দেয়। তারপরও এনামুল সন্ধ্যার দিকে তার লোকজন নিয়ে আমার লোকজনকে মারধর করেছে।’
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘চেয়ারম্যান প্রার্থী এনামুল হোসেন হাসপাতালে আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে আসেন। এর কিছুক্ষণ পর অপর প্রার্থী মোস্তফা গোলাম কবিরের দুজন সমর্থক আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে আসে। এ সময় হাসপাতালের বাইরে থাকা দুই পক্ষের লোকজন আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ৩০মিনিট ধরে সংঘর্ষ চলার পর পুলিশ এসে উভয়পক্ষের ওপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।’
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন বলেন, ‘এ ঘটনায় যাতে নির্বাচনের পরিবেশের ওপর প্রভাব না পড়ে সেজন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ দিলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



