অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণের কারণে বরগুনার খাকদোন নদীতে নির্মিত ২২টি সেতু নৌযান চলাচলে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কম উচ্চতার কারণে জোয়ারের সময় এসব সেতুর নিচ দিয়ে বড় নৌযান চলাচল করতে পারে না। এছাড়া সেতুর পিলারে বাধা পেয়ে পলি জমে ধীরে ধীরে নদীটি পরিণত হচ্ছে খালে।
বরগুনার খাকদোন নদী পায়রা ও বিষখালী নদীকে সংযুক্ত করেছে। ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীর মাত্র ছয় কিলোমিটার অংশে চলে নৌযান। বাকি অংশে কম উচ্চতার ২২টি সেতুর কারণে নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ।
নৌ চালকদের অভিযোগ, জোয়ারের সময় সেতুগুলোর কম উচ্চতা কমে নৌযান চলাচল ব্যহত হয়। একই সাথে ভাটার সময় পড়তে হয় নাব্যতা সংকটে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মাছ নিয়া যে ট্রলার আসবে সেগুলো আসতে পারে না ওই ব্রিজের কারণে।
ট্রলারের এক কর্মকর্তা বলেন, যখন জোয়ার আসে তখন নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রলার ব্রিজে আটকে যায়। যখন আবার ভাটা হয় তখন ট্রলার নিচে বালুতে আটকে যায়।
পরিবেশকর্মীদের দাবি, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সেতু এবং অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে নানা সমস্যা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির নেট মেম্বার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘অপরিকল্পিত অনেকগুলো ব্রিজ হয়েছে। ব্রিজের পিলারের কারণে নদীর স্রোত নেই, পলি পড়ে জমে গেছে। এই নদী রক্ষা করতে হলে এখনই আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে, তা না হলে এই নদী আর থাকবে না।
নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের স্তর থেকে অন্তত ১৮ ফুট উচ্চতায় সেতু নির্মাণের নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। এমনকি নেয়া হয়নি বিআইডাব্লিউটিএ'এর নেভিগেশন ছাড়পত্র। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিন্ন কথা বলছেন সেতুগুলোর নির্মাতা এলজিআরডি কর্তৃপক্ষ।
বরগুনা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, ‘২০১০ সালের আগে যে ব্রিজগুলো নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার মতো বিষয়টি তখন জরুরি ছিল না। ২০১০ সালের পরে যেগুলো নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলোর কিন্তু নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স নিয়েই করা হয়েছে। যদি বিআইডব্লিউটিএ এই নদী খনন করে বা নদীর নাব্যতা ফিরে আসে, তখন এই ব্রিজগুলোর হাইট বাড়ানোর জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করব।’
অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে পায়রা-বিষখালী সংযোগ নদীটি হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।



