প্রায় দুই যুগ ধরে পৌরসভা ভবনে চলছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম। বাড়তি চাপের কারণে অনুমোদন ছাড়াই তিনতলায় উন্নীত করা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ভবনটি।
সিটি কর্পোরেশনের ভবনটি স্থানান্তরে মন্ত্রণালয়ে চাহিদা জানানো হলেও সাড়া মেলেনি এখনও।
আশির দশকের মাঝামাঝি ফজলুল হক এভিনিউতে ৪৬ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণ করা হয় বরিশাল পৌরসভার দোতলা ভবন। ২০০১ সালে পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরের পর বাড়ে কাজের পরিধি। এজন্য ভবনটিকে তিনতলায় উন্নীত করা হয়। তবে নকশার নেওয়া হয়নি কোনো অনুমোদন। মানহীন নির্মাণের কারণে কয়েক বছরের মধ্যেই পিলার-দেয়ালসহ বিভিন্ন অংশে দেখা দেয় ফাটল।
এরইমধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ভবনটি। এতে একদিকে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঝুঁকির মধ্যে সেবাপ্রত্যাশীরাও।
সিটি কর্পোরেশনের সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, ‘প্রতিটা দেয়াল এবং প্রতিটা পিলার দীর্ঘদিন ধরে ঝড়াজীর্ন। জায়গায় জায়গায় ফাটল ধরে আছে।’
সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মী বলেন, ‘আমাদের মাথার ওপর প্রায় প্রতিদিনই ছাদের পলেস্তরার অংশ খসে পড়ে।’
কর্মকর্তারা বলছেন, চব্বিশে গণঅভ্যুত্থানের সময় নগর ভবনের সম্প্রসারিত অংশ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হলে চারটি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এই ভবনে স্থানান্তর করা হয়। বেহাল ভবন ও অতিরিক্ত মানুষের চাপে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কাজে।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের স্থপতি সাইদুর রহমান বলেন, ‘এখন আমরা বলতেই পারি যে, এটার ওপর এক তলা ওভার লোড করে ফেলেছি। যেটা কিনা যে কোনো ধরেনের ভূমিকম্পেই হুমকির কারণ হতে পারে।’
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘বিগত ভূমিকম্পে ভবনের অনেকগুলো কলাম ও ভিমে ফাটল ধরেছে। আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। কারণ যেকোনো মুহূর্তে বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ পৌর ভবনটা ধসে পড়তে পারে।’
এরইমধ্যে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সরিয়ে সেখানকার ৬ একর জমিতে নতুন ভবনের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদা জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, ‘প্ল্যান করে আমরা সবকিছু করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়ে এসেছি। সেটা এখন প্ল্যানিং কমিশনে আছে। এই অর্থ বছরে যেহেতু জুন মাসে অনেক চাপ থাকে তারা বলেছে আপা এই জুনের ঝামেলাটা চলে গেলেই আমরা এটা নিয়ে কাজ করব।’
নগর কর্তৃপক্ষের বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারী দেড় হাজার। এছাড়া প্রতিদিন ভবনটিতে বিভিন্ন কাজে অন্তত সাড়ে ৪ হাজার মানুষের আনাগোনা। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা তাদের।



