পিরোজপুরের নেছারাবাদের মিয়ারহাট বন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৎস্য শিকারের সুতা-রশির মোকাম, কীটনাশক, সার ও মোদি ব্যবসায়ী ১৬টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
গতকাল শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নেছারাবাদ ইউনিটের দুটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এ সময় নেছারাবাদ থানা-পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় রাত প্রায় ৪টা পর্যন্ত চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে ১৬টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে দাঁড়াবো বুঝতে পারছেন না তারা। এ অগ্নিকাণ্ডে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরকারি ক্ষতিপূরণ, আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থায়ী ফায়ার স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। এতে প্রায় ১২ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
কীটনাশক ও সার ব্যবসায়ী রিয়াদ কাজী বলেন, আগুন লাগার পর কিছুই বের করতে পারিনি। কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
জাহাজ ও ট্রলারের দড়ি ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছরও একই গলিতে আগুনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। কিন্তু স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বারবার এমন ঘটনা ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়ে দিচ্ছে।
বরিশাল বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের সহাকারী পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। দাহ্য পদার্থ বেশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা কীটনাশক দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ বলা যাবে।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।



