বান্দরবানের রুমায় সশস্ত্র গোষ্ঠি কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) আরেক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। তার নাম লাল লিয়ান সিয়াম বম।
মঙ্গলবার রাতে রুমার বেথেল পাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। লাল লিয়ান জেলার সদর ইউনিয়নে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেথেল পাড়ার মৃত থন আলহ বমের ছেলে।
বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’
রুমা ও থানচিতে তিন ব্যাংক লুট, থানচি থানা ও আলীকদমে চেকপোস্টে আক্রমণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেএনএফ সংশ্লিষ্টতায় ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
গত ২ এপ্রিল রাতে তারাবি নামাজের সময় বান্দরবানের রুমা শাখা সোনালী ব্যাংক ও আশেপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে শতাধিক সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মসজিদ থেকে ব্যাংক ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে ধরে নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে মারধর করে তারা। পরে তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এ সময় ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ১০ পুলিশ ও ৪ আনসার সদস্যকে নিরস্ত্র করে ৮টি চাইনিজ অটোমেটিক রাইফেল, ২টি এসএমজি, ৪টি শটগান ও ৪১৫ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় ২ পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনার পরদিন থানচিতে আরও দুটি ব্যাংকে ডাকাতি হয়।
৪ এপ্রিল রাতে অপহৃত সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা নেজাম উদ্দিনকে রুমা বাজার থেকে উদ্ধার করে র্যাব। এর পরপরই থানচি থানা থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনেন স্থানীয়রা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই গোলাগুলি চলে।
স্থানীয়রা বলছেন, থানচি থানার পাশে প্রথম গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পরে তা থানচি বাজারের কাছে চলে আসে। এ সময় কেএনএফ সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময় হয়। পুলিশ জানিয়েছে, থানায় হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে তারা প্রায় ৫০০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই ওইদিন মধ্যরাতে আলীকদমের ২৬ মাইল ডিম পাহাড় এলাকায় যৌথবাহিনীর চেক পোস্টে হামলা হয়। সবগুলো ঘটনার সঙ্গেই কেএনএফ জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এরপর থেকেই পার্বত্য অঞ্চলে অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। অভিযানের মধ্যে গত রোববার কেএনএফের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক চেওশিম বমকে বান্দরবানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করার তথ্য জানায় র্যাব–১৫।
ব্যাংক লুটের ঘটনায় রুমা থানায় ৫টি এবং থানচিতে ৩টি মামলা হয়েছে। যৌথবাহিনীর হাতে আটকদের মধ্যে ১৮ জনই নারী।



