নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ছেলের মামলা-হামলায় বাড়িছাড়া হয়েছেন এক বৃদ্ধা মা। ভুক্তভোগী আয়েশা আক্তার (৭৯) উপজেলার চরজুবলী গ্রামের প্রয়াত হাজী সিদ্দিক উল্যার স্ত্রী। ছেলের ভয়ে গত পাঁচ দিন ধরে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। নিরুপায় হয়ে ছেলের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই মা।
আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের এক আত্মীয় বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী আয়েশা আক্তার। তিনি জানান, তাঁর দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে বড় ছেলে ফয়েজ উল্যাহ তাঁকে প্রতিনিয়ত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আয়েশা আক্তার জানান, ফয়েজকে তাঁর বাবা সুবর্ণচরে মোটরসাইকেল শোরুম ও ডিলার ব্যবসা ধরিয়ে দেন। কিন্তু ব্যবসায় দেড় কোটি টাকা লোকসান দেন ফয়েজ। পরে ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ফয়েজের বাবা গ্যারান্টার হয়ে তাঁকে ইসলামী ব্যাংকের সুবর্ণচর শাখা থেকে ২৫ লাখ টাকা সিসি লোন নিয়ে দেন। এক বছর পর সিসি লোন পরিশোধ না করে বাবার স্বাক্ষর জাল করে লোন বর্ধিত করেন ফয়েজ। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দোকান ভিটা নিলামের নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেয়। একপর্যায়ে বিক্রি করে সুদসহ ব্যাংকের ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়।
আয়েশা আক্তার অভিযোগ করেন, স্বামীর সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য ফয়েজ তাঁকে পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এমনকি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলা জড়িয়ে জেল খাটান।
সংবাদ সম্মেলনে সরকার ও প্রশাসনের কাছে ছেলের দৃষ্টান্তমূল শান্তি এবং নিজের নিরাপত্তা দাবি করেন আয়েশা আক্তার।
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া জানান, বৃদ্ধা আয়েশার মা তাঁর দুই ছেলেসহ এক বাড়িতে বসবাস করেন। ঘর তোলাকে কেন্দ্র করে তাঁর বড় ছেলে মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় বড় ছেলের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় আয়েশা ও তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে বৃদ্ধা আয়েশা জামিনে মুক্ত হন।



