নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে ছাত্রদলকর্মী আবুল হোসেন রাফি (১৯) হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত পল্লি চিকিৎসক গিয়াস উদ্দিন শাহিনকে গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে।
আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সোনাপুর-কবিরহাট-বসুরহাট সড়কের অশ্বদিয়া ইউনিয়নের ব্যাল্লাকোট্টা চাঁনমিয়ার মোড়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। এতে অংশ নেয় নিহত রাফির স্বজন, এলাকাবাসী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা।
এ সময় আন্দোলনকারীরা ছাত্রদলকর্মী রাফিকে হত্যার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও হত্যাকারী পল্লি চিকিৎসক গিয়াস উদ্দিন শাহিন গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। রাফির হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে নানা স্লোগান দেন তারা।
এদিকে অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহনের দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর নোয়াখালী ক্যাম্পের একটি টহল দল ও সুধারাম মডেল থানা পুলিশের পৃথক একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের পক্ষ থেকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ছাত্রদলকর্মী আবুল হোসেন রাফির হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবোধ তুলে নেয় আন্দোলনকারীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে একই দাবিতে গত রোববার সকাল ১১টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সকাল ১১টা থেকে এলাকাবাসীর ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়।
এ সময় সমাবেশে রাফির বাবা আবুল কালাম আজাদ ও অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম অভিযুক্ত পল্লি চিকিৎসক শাহিনকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার সময়সীমা বেঁধে দেন।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অশ্বদিয়া ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলছিলেন ছাত্রদলকর্মী আবুল হোসেন রাফি। খেলার মধ্যে এক বন্ধুর ঠোঁট কেটে গেলে পল্লি চিকিৎসক গিয়াস উদ্দিন শাহীনের (৬০) কাছে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাফির সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাফিকে ছুরিকাঘাত করেন শাহীন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাতে মারা যান রাফি।
এ ঘটনায় রাফির বাবা আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে পল্লি চিকিৎসক গিয়াস উদ্দিন শাহীনকে আসামি করে সুধারাম মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পর অভিযুক্ত পল্লি চিকিৎসক গিয়াস উদ্দিন শাহীন এলাকা থেকে পালিয়ে যান। তাকে ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ।



