লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চর-আবাবিল ইউনিয়নের উদমারা এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গুরুতর আহত মসজিদ কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম (৫২) মারা গেছেন। আড়াই মাস ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গতকাল শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে উদমারা এলাকা থেকে সাব্বির হোসেন নামে এক কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই মো. জসিম উদ্দিন জানান, এলাকায় জুয়ার আসর ও মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর হামলা চালায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এতে গুরুতর আহত হন জাহাঙ্গীর। প্রথমে রায়পুর, পরে সদর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ আড়াই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল মারা যান তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূইয়া। ওসি জানান, শনিবারে মারা যান জাহাঙ্গীর আলম। তিনি মসজিদ কমিটির সভাপতি ছিলেন। এ ঘটনায় সাব্বির হোসেন ও রহিম উদ্দিনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, মসজিদের আশপাশে জুয়ার আসর ও মাদক সেবন করতো কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এসব বিষয়ের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে সাব্বির হোসেন, জুবায়ের বাহারের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য গত ৩ এপ্রিল জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর হামলা চালায়। হামলার পর ৭ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী রাজিয়া বেগম। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে রায়পুর থানাকে মামলা হিসেবে রুজি করতে নির্দেশ দেন। ১০ এপ্রিল রায়পুর থানা মামলাটি রুজু করেন।
এর আগে একই এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের হামলায় সুদেব শীল মনু নামের আরও একজন মারা যান। এসব ঘটনার প্রতিবাদ ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপরও বন্ধ হয়নি কিশোর গ্যাং সদস্যদের দৌরাত্ম্য।



