১০ বছর আগে চাঁদপুরের কচুয়ায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মাদরাসাছাত্র মো. মিলন হোসেন (১২) হত্যার ঘটনায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ- ২ এর বিচারক সৈয়দ তাফাজ্জল হোসেন হিরুর আদালত এই রায় দেন।
আসামিদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন– শামিম হোসেন (২৮) ও সোহাগ হোসেন (২৮)। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হলেন মো. রাব্বি হোসেন (২৮)। শামিম হোসেন কান্দিরপাড় প্রধানিয়া বাড়ির মো. ইমাম হোসেনের ছেলে, সোহাগ হোসেন পাড়াগাঁও গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে ও রাব্বি হোসেন কান্দিরপাড় গ্রামের ফরাজি বাড়ির আবুল বাসারের ছেলে।
রায়ে আসামি শামিম হোসেন ও সোহাগ হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। আর রাব্বি হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, হত্যার শিকার মিলন হোসেন কচুয়া কান্দিরপাড় গ্রামের প্রধানিয়া বাড়ির মো. তাজুল ইসলামের ছেলে। মিলনের বাবা তাজুল ইসলামের সাথে আসামিদের স্বজনদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের কারণে ঘটনার দিন ২০১৫ সালের ২৯ জুন দুপুর ১টার দিকে মিলন বাড়ি থেকে পাশের রহিমানগর বাজারে যায়। বাজার থেকে বাড়িতে না ফেরায় পরদিন ৩০ জুন কচুয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে তার ভাই মো. রিপন হোসেন (২৫)।
এরপর ২ জুলাই স্থানীয়দের মাধ্যমে মিলনের পরিবার জানতে পারে আসামি শামিম, সোহাগ ও রাব্বি মিলনকে হত্যার উদ্দেশ্যে কান্দিরপাড়ে ইব্রাহিম খলিল নামের এক ব্যক্তির জমিতে নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
বাদী রিপন হোসেন জানান, আসামীদের নাম পরিচয় জানার পর প্রথমে স্থানীয় লোকজন শামিমকে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বাকি দুই আসামি সোহাগ ও রাব্বির নাম পাওয়া যায়। এরপর তাদেরকে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ২ জুলাই ঘটনাস্থল থেকে মিলনের মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
এই ঘটনায় ওইদিনই মিলনের বড় ভাই রিপন হোসেন বাদী হয়ে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন কচুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ওয়াজেদ আলী ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
সরকার পক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, মামলাটি দীর্ঘ ১০ বছর চলাকালীন সময়ে ২২ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। আসামিদের অপরাধ স্বীকার ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে বিচারক তাদের উপস্থিতিতে রায় দেন।



