কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম নিখোঁজের একদিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়েছিল অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে প্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিবিসি জানায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কোটবাড়ি এলাকার বাসিন্দা, সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও সে না ফেরায় পরিবার তাকে খুঁজতে শুরু করে।
খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরাও তাকে খুঁজতে নেমে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু নাঈমের ভাষ্যমতে, সারারাত ধরে দল বেঁধে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে তাকে খোঁজার চেষ্টা চলে। কোনো সন্ধান না পেয়ে শুক্রবার রাতেই সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যাতে উল্লেখ করা হয় বেলা সাড়ে তিনটায় বাসা থেকে হেঁটে বের হওয়ার পর তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম জানান, ফুটেজ পর্যালোচনায় দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অপ্রতিমকে শেষবারের মতো দেখা যায়, তখন তার সঙ্গে ক্যাপ পরা বয়সে বড় একজনকে দেখা যায় যার চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হয়েছিল। এই তথ্য পুলিশকে জানানো হয়। প্রক্টরিয়াল টিম পরে ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে, উপাচার্যের দাবি অনুযায়ী তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকারই একজন বাসিন্দা।
যেভাবে মরদেহ উদ্ধার
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গলে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ আব্দুল কাদির জ্বিলানীর ভাতিজা প্রথমে একটি শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন। কাছে গিয়ে মাথায় রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে দেখে তারা ভয় পেয়ে জায়গা ত্যাগ করেন এবং পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশকে জানান। এরপর পুলিশ জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
তদন্তের অগ্রগতি
ঘটনাটি সারাদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক মাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে একজনকে আটক করেছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, একাধিক তদন্ত দল মাঠে কাজ করছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে। হত্যার প্রকৃত কারণ — এটি নিছক আইফোন ছিনতাই নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল — তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
নিহতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি এই ঘটনাকে তার দেখা অন্যতম মর্মান্তিক মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের বিচার তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।



