চট্টগ্রামে বেড়েছে সাপের উপদ্রব। এরই মধ্যে সাপের ছোবলে জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন। বিষধর সাপের আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টি-ভেনম রাখার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কোথাও ওষুধ না পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৪ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৮৩; মারা গিয়েছিল ৩ জন। আর চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৪ জন। আর মৃত্যু হয় অন্তত ১৫ জনের।
চিকিৎসকেরা বলছেন, বন উজাড়, আবাসস্থল হারানোসহ নানা কারণে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে সাপ। সুযোগ পেলেই দিচ্ছে ছোবল। এমন ঘটনায় দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ বলেন, ‘হেমাটো টক্সিক ব্লাড শরীরে ঝামেলা করে, কখনও কখনও কিডনিতে সমস্যা করে কিন্তু লোকাল সোয়েলিং করে। জায়গাটা প্রচুর ফুলে যায়। এদের ক্ষেত্রে এই বাঁধনটা যদি দীর্ঘ সময় রেখে দেওয়া হয় তখন বাঁধনটাও ফুলতে থাকে আর টিস্যু ড্যামেজ হতে থাকে।’
চিকিৎসকরা বলছেন, রোগীদের একটি বড় অংশ ওঝার কাছে গিয়ে সময় নষ্ট করে। এতে অনেক সময় চিকিৎসা শুরুর আগেই মারা যান আক্রান্ত ব্যক্তি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. সাইফুল ইসলাম আরজু বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা থাকবে যে যত দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা। যে সাপগুলো বিষাক্ত, আমরা যাতে দ্রুত অ্যান্টি-ভেনম শুরু করতে পারি। সাপে কামড়ের যে ভ্যাকসিন, সেটা যাতে দ্রুত শুরু করা যায়। এর ফলেই রোগীর জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা অনেকাংশে বাড়ে।’
সাপের ছোবলে প্রাণহানি প্রতিরোধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টি-ভেনম রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘প্রত্যেকটি উপজেলায় আমরা, আগে এগুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আমরা নিয়ে আসতাম। এখন যদি সেখানে পর্যাপ্ত থাকে তাহলে আমরা পাব। যদি নাও পাই, আমাদের বলা হয়েছে প্রতি উপজেলায় কমপক্ষে দুজন রোগীর ওষুধের স্টক রাখতে।’
সবুজ প্রকৃতি ও জলাশয় বাঁচানো না গেলে আগামী দিনে এই সমস্যা আরও প্রকট হবে বলে শঙ্কা পরিবেশবিদদের।



