৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরখোন্দকার ও চর রামনারায়ণ মৌজার মৎস্য প্রকল্পের খামারিদের প্রকল্পের বাঁধ কেটে খামারের মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ রোববার দুপুরে ফেনী জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে মৎস্য প্রকল্পের ভুক্তভোগী খামারি ও মালিকরা মানববন্ধন করে। পরে তারা পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
সোনাগাজীর দক্ষিণ চরখন্দকার মৎস্য প্রকল্প মালিক সমিতি সভাপতি শেখ রাসেল মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় ভুক্তভোগী খামারি মোমিন হোসাইন বলেন, ‘১৫ দিন পূর্ব থেকে সন্ত্রাসীরা ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি করায় গত মঙ্গলবার রাতের আঁধারে মৎস্য প্রকল্পের কর্মচারী ও গার্ডকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৭০ একর জায়গায় চাষকৃত প্রকল্পের ৫ কোটি টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় স্কেভেটর দিয়ে প্রকল্পের পাঁড় কেটে মাছগুলো নদীতে ও পার্শ্ববর্তী খামারে ছেড়ে দেয়। এতে খামারিদের কোটি টাকার বেশি মাছের ক্ষতি হয়। ওই মৎস্য প্রকল্প লুট করে ও বাঁধ কেটে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন স্কেভেটর চালক অপু ও তাঁর সহযোগী সোহেলকে আটক করে সোনাগাজী মডেল থানায় হস্তান্তর করে। পুলিশ তাদের ১৫৪ ধারায় মামলা করে আদালতে পাঠায়।’
মৎস্য প্রকল্প মালিক সমিতি সভাপতি শেখ রাসেল বলেন, ‘ন্যায় বিচার চেয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় পৃথক চারটি অভিযোগ দায়ের করি। থানার পুলিশ আমাদের অভিযোগগুলো আমলে না নিয়ে সালিসি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে ও খামারিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি প্রদান করে।’
মানববন্ধনে আগত খামারিরা জানান, গত ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সোনাগাজীর দক্ষিণ অঞ্জল এলাকার ৪৫ জন খামারির সবগুলো খামারের মাছ বন্যার পানির ভেসে যায়। খামারিরা শত শত কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হই। চরম অর্থ সংকটের মধ্যেও চলতি বছর তারা পুনরায় ব্যাংক ঋণ ও বন্ধু সুভাকাংখিদের নিকট থেকে ধারদেনা করে মাছ চাষ শুরু করেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে একের পর এক চাঁদার দাবি, হুমকি ধমকি, জবর দখলের চেষ্টাসহ নানান বিপদ মাথায় নিয়ে দিনাতিপাত করছেন। এতকিছুর পরও তারা খামারিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের মৎস্য সম্পদকে সমৃদ্ধ করার জন্য ও দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করছি। পাশাপাশি শত শত লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন। এ সময় তারা মৎস্য শিল্প প্রসারে প্রশাসনের কাছে সকল ধরনের নিরাপত্তা চান।
তারা জানান, প্রশাসনের সাথে আঁতাত করে সোনাগাজীর দক্ষিণ অঞ্চলের কয়েকজন চিহ্নিত ভূমি দস্যু, মৌসুমী রাজনীতিবিদ ও ফ্যাসিস সরকারের দোসররা কয়েকটি প্রকল্পে অবৈধভাবে জবর দখলের পাঁয়তারা করে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এসব ঘটনায় একটি স্মারকলিপি হাতে পেয়েছি। মৎস্য শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় মানুষকে সাথে নিয়ে আইনগত সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



