কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকায় সেনাবাহিনী ও র্যাবের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অপরাধমূলক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোঃ নজমুল ইসলাম শামীমকেও উক্ত অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই যৌথ অভিযানটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৩ বীর ও র্যাব-১১ (সিপিসি-২) এর সদস্যরা। সেনাবাহিনীর কুমিল্লা সদর ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে।
অভিযানকালে শামীমের বাসা থেকে তিনটি স্থানীয়ভাবে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান), মোট ৬০ রাউন্ড শটগান কার্তুজ, ১৮ রাউন্ড মেশিনগান গোলাবারুদ, একটি পিস্তলের একটি রাউন্ড, একটি রিভলভার বা এয়ারগানের একটি রাউন্ড, ছুরি, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়ালসহ মোট ১০টি দেশীয় অস্ত্র, দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ, এটিএম কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-১১ (সিপিসি-২) এর অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, সেনাবাহিনী ও র্যাব যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। র্যাবের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শামীমকে আটক করা হয়। সেনাবাহিনী তাকে র্যাবের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০ ডিসেম্বর ভোরে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের শুরুতে শামীমের নিজ বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে স্থানীয়ভাবে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, দেশি ও বিদেশি গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পরে তার ব্যবহৃত একাধিক গোপন আস্তানায় অভিযান চালানো হলেও তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে র্যাব-১১ (সিপিসি-২) আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জিপিএস ও লোকেশন ট্র্যাকিং করে শামীমের অবস্থান শনাক্ত করে এবং তাকে সফলভাবে আটক করে। গ্রেপ্তারকৃত শামীম জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ডের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ইতোপূর্বে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। শামিম কুমিল্লা শহরের একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পুলিশি নথি অনুযায়ী, শামীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, দাঙ্গা, হত্যাচেষ্টা, গুরুতর জখম এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিভিন্ন ধারায় কমপক্ষে সাতটি মামলা রয়েছে।
৩৩ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন ৪৪ পদাতিক ব্রিগেডের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৩ বীর কর্তৃক পরিচালিত এই অভিযান কুমিল্লা অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।



