৬৬ লাখেরও বেশি ভোটারের চট্টগ্রাম জেলা এখন মজে আছে ভোটের লড়াইয়ের উত্তেজনায়। বড় দলগুলোর অন্তর্দ্বন্দ্ব আর বিদ্রোহ এরই মধ্যে পাল্টে দিয়েছে ভোটের অনেক হিসাব। পরিবর্তনের আশা নিয়ে মাঠে আছেন ছোট অনেক দলের প্রার্থীরা। এখনো বড় কোনো সহিংস ঘটনা না ঘটলেও, সে আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ।
চট্টগ্রামে জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ১৬টি সংসদীয় আসন। মোট ভোটার ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। ভোটারদের নজর কাড়তে চলছে জোর প্রচারণা।
শুরুতে মাঠের লড়াইটা বিএনপির জন্য যতটা সহজ ভাবা হয়েছিল, সমীকরণ ততটা সরল নাও হতে পারে। বাঁশখালী ও চন্দনাইশে আছেন বিদ্রোহী প্রার্থী। এছাড়াও অন্তত ৭টি আসনে আছে মনোনয়ন বঞ্চিত হেভিওয়েট নেতাদের নীরবতা অথবা বা বিরোধিতা। শীর্ষ নেতাদের দাবি, ভবিষ্যত পরিকল্পনা আর অতীত কর্মকান্ডই শেষমেষ এগিয়ে রাখবে তাদের।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ স্থিতিশীলতা চায়, শান্তি চায়, সহনশীলতার রাজনীতি চায়, পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধের রাজনীতি চায়– যেটা বিএনপি ধারণ করে আমরা সেটাই চাই। যারা অন্য পথে চলছে তাদের রাজনৌতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার খুব বেশি সুযোগ আছে বলে মনে করি না।’
এদিকে সংখ্যালঘু আর আওয়ামী ভোটারদের নিজেদের কোর্টে টানতে নানা হিসাব কষছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। বসে নেই অন্য অনেক ছোট দলের বড় প্রার্থীও।
চট্টগ্রাম জামায়াতে ইসলামীর মানবসম্পদ উইং প্রধান শফিউল আলম বলেন, ‘আমি সিরিয়াসলি ফিল করি যে প্রতিহিংসামুক্ত একটা বাংলাদেশ হতে হবে, একটা উদারতার বাংলাদেশ হতে হবে। পেছনে যে প্রতিহিংসার রাজনীতি ছিল, কে কোন দল করেছে তা ভুলে যেতে হবে।’
চট্টগ্রাম গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক হাসান মারুফ রুমী বলেন, ‘যেই দলের কর্মীসংখ্যা কম তাদের তো জনগণের কাছে পৌঁছানো কষ্টকর। কিন্তু আমার মনে হয় এবার দেশের ভোটাররা তাদের সুচিন্তিত মতামত দিতে পারবেন।’
বর্তমানে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১১২ জন। তবে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখাকেই বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আনন্দ ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের অংশগ্রহণ এটা আমরা নিশ্চিত করব। আমরা আমাদের যে দায়িত্ব সেটা জিরো টলারেন্স এবং নীতিমালার আলোকে কমিশনের গাইডলাইনের আলোকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করে যাচ্ছি।’
হাড্ডাহাড্ডি এই লড়াইয়ে কার গলায় উঠবে জয়ের মালা, তা জানতে এখন অপেক্ষা ১২ ফেব্রুয়ারির।



