যুবদল, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও এনসিপির দিনভর মুখোমুখি অবস্থানের পর বিকেলে হঠাৎ উত্তাল হয়ে ওঠে ফেনী জেলা শহর। জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিতে নাম উঠে আসা এবং ঋণখেলাপির অভিযোগে ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিকেল ৪টায় শহরের মিজান ময়দানে বিক্ষোভের ডাক দেয় জেলা ছাত্রশিবির।
মঙ্গলবার দুপুরে শিবির এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই একই দাবি, একই সময় ও একই স্থানে কর্মসূচির ডাক দেয় এনসিপি।
অন্যদিকে, জামায়াতের আমিরের নারীদের নিয়ে দেওয়া অবমাননাকর বক্তব্য, স্বাধীনতার ঘোষক সম্পর্কে মিথ্যাচার এবং আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে একই সময় মিজান ময়দানে পাল্টা বিক্ষোভের ঘোষণা দেয় জেলা ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদল।
তিন পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয়। কর্মসূচি শুরুর আগেই মিজান ময়দান ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় কোনো পক্ষকেই মিজান ময়দানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনো দলই মিজান ময়দানে কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। সেখানে অবস্থান নিতে না পেরে বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলো ফেনী-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়—ভাষা শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থান নেয়। এনসিপি অবস্থান নেয় ট্রাঙ্ক রোডের জুলাই চত্বরে। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা চলে যান এসএসকে রোডের ওয়াপদা মাঠে।
পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তিন পক্ষই বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে, তবে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে। ওয়াপদা মাঠ থেকে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল মহিপাল পর্যন্ত যায়। এ সময় শিবির নেতারা বলেন, ফেনী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মিন্টুকে কেন্দ্র করে ফেনীর মানুষ অপমানিত হচ্ছে। বক্তারা তার মনোনয়ন বাতিলের দাবিও জানান।
এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল শহীদ মিনার পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বক্তারাও ছাত্রশিবিরের মতো একই দাবি তুলে ধরেন।
অন্যদিকে ভাষা শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টার থেকে বের হওয়া ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ট্রাঙ্ক রোড ঘুরে এসএসকে সড়ক হয়ে শহর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে গেলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতারা নারীদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য এবং স্বাধীনতার ঘোষক সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য জামায়াতের আমিরকে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে লক্ষাধিক নেতাকর্মী ধৈর্য ধরে আছে। তবে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
আবদুল আউয়াল মিন্টুকে নিয়ে অপপ্রচার বন্ধ না হলে এর দায় জামায়াতকে বহন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।
বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার নাসির উদ্দিন, সদস্যসচিব নঈম উল্যাহ চৌধুরী বরাত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম কায়সার এলিন।



