খাগড়াছড়ির একটি মাত্র আসনে লড়ছেন ১১ জন প্রার্থী। এবার আঞ্চলিক দলগুলোর প্রার্থী না থাকলেও তাঁদের পরোক্ষ সমর্থনে বিএনপির বিপক্ষে শক্ত অবস্থানে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী। মাঠে আছেন জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীও। পর্যটন বিকাশ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বিদ্যুতায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তাঁরা।
পর্যটননির্ভর খাগড়াছড়ির মোট আয়তন প্রায় ২ হাজার ৭০০ বর্গ কিলোমিটার। ৩৮ ইউনিয়ন, ৯ উপজেলা ও ৩ পৌরসভা নিয়ে গঠিত খাগড়াছড়ি জেলার মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন। তাদের ভোট পেতে লড়ছেন ১১ প্রার্থী।
দুই দশক পর হারানো সাম্রাজ্য ফিরে পেতে মরিয়া বিএনপির প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া। ধানের শীষে ভোট চেয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।
খাগড়াছড়িতে বিএনপি প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পুরোনো দল। আশা করি, এলাকাবাসী বিবেচনা করে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন।’
লড়াইয়ের মাঠে শক্ত অবস্থানে আছেন জামায়াত ও স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতায় আঞ্চলিক দলগুলো সরাসরি কোন প্রার্থীকে সমর্থন না দিলেও এই দুই প্রার্থীর ক্ষেত্রে ভাগাভাগি হতে পারে তাঁদের ভোট ব্যাংক।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান বলেন, ‘আমি শেষ বয়সে দেখে যেতে চাই, এখানকার মানুষ যেন নিরাপদ ও শান্তিতে দিন পার করতে পারে।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমা বলেন, ‘আশা করি পাহাড়ি ও বাঙালিরা নির্বাচনে জয়ী হতে আমাকে সহযোগিতা করবেন।’
পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি ফেরাতে কাজ করবেন, এমন প্রার্থীকে বেছে নিতে চান ভোটারেরা। তাঁরা বলছেন, এমন একজন সুযোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হোক, যিনি পাহাড়িদের ভালো-মন্দ দেখবেন। দল-মত নির্বিশেষে খাগড়াছড়ির উন্নয়নে কাজ করবেন।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে যাবতীয় প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
খাগড়াছড়ি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, জেলার ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে দুর্গম এলাকায় অবস্থিত অর্ধশতাধিক। নির্বাচনের সময় মনিটরিংয়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আশা করছি, এ আসনে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’



