চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ রোববার। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া দায়িত্ব ছাড়তে নারাজ তিনি।
মেয়র জানান, ২০২১ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট কারচুপি করে মেয়র হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম। ফল বাতিলের আবেদন করে ২০২১ সালে মামলা করেন শাহাদাত হোসেন। সেই মামলার রায় পক্ষে যাওয়ায় ২০২৪ সালে তাঁকে মেয়র ঘোষণা করা হয়।
মেয়র শাহাদাতের দাবি, মেয়র রেজাউল করিম অবৈধ ছিলেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। সেই হিসেবে মেয়র হিসেবে ৫ বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে তাঁর।
মেয়রের দায়িত্বে আসার পর ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বাধীন ষষ্ঠ পরিষদের প্রথম সভা হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। নিয়ম অনুযায়ী রোববারই বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
এদিকে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে নির্বাচন আয়োজন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য নেই প্রশাসনের কাছে।
২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়। ১৯ আগস্ট চট্টগ্রামসহ দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ডা. শাহাদাতকে মেয়র ঘোষণা করে মামলার রায় দেন। একই সঙ্গে ১০ দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবকে নির্দেশ দেন।
এরপর ৮ অক্টোবর ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। পরে ৩ নভেম্বর শপথ গ্রহণ এবং ৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চসিকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ডা. শাহাদাত। তিনি ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর প্রথম সভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চসিকের কার্যক্রম শুরু করেন। ফলে আদালতের রায়ে মেয়র হওয়ার ১৫ মাস পর নিয়ম অনুযায়ী আজ ডা. শাহাদাত হোসেনের শেষ দিন।
স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম গতিশীল রাখতে সরকার প্রশাসক দেওয়ার বিধান রয়েছে।



