চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানসহ নয়জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
সোমবার ভোরে হালিশহরের এইচ ব্লকের একটি ছয়তলা ভবনের তিনতলায় এই বিস্ফোরণ হয়। স্বজনদের দাবি, ভবনের লিফট ছিঁড়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও ভবনের বাসিন্দাদের দাবি, গ্যসলাইন বিস্ফোরণেই এ ঘটনা ঘটেছে।
দগ্ধরা হলেন–মো. সাখাওয়াত হোসেন, তাঁর স্ত্রী নুরজাহান বেগম, ছেলে শাওন, মেয়ে আইমান, সাখাওয়াতের ভাই পর্তুগাল প্রবাসী মো. সুমন, তাঁর স্ত্রী পাখি আক্তার, তাদের ছেলে আনাস ও মেয়ে আইসা এবং মো. শিপন নামের আরেকজন। দগ্ধদের মধ্যে সুমন গেল সপ্তাহে পর্তুগাল থেকে দেশে আসেন অবকাশ যাপনের জন্য। এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গেল সপ্তাহে পর্তুগাল থেকে দেশে আসেন মো. সুমন। এরপর পরিবারসহ চট্টগ্রামে বড় ভাই সাখাওয়াত হোসেনের বাসায় পরিবারসহ ঘুরতে যান। সোমবার সেহরি খেয়ে ফজরের নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন হালিশহর এইচ ব্লকের হালিমা ম্যানসনের তিনতলার বাসিন্দা সাখাওয়াত ও তার পরিবার। একপর্যায়ে হঠাৎ বিকট শব্দে কিছু একটা বিস্ফোরণ হয়। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো বাসার দরজা জানালার পর্দায় আগুন ধরে যায়। মুহূর্তে প্রচণ্ড ধোঁয়া আর আগুনে তছনছ হয়ে যায় পুরো বাসা। গুরুতর দগ্ধ হন শিশুসহ নয়জন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের রেজিস্টার ডা. মো. আসফাকুল আসিফ বলেন, দগ্ধদের মধ্যে তিনজনের শরীরের ১০০ শতাংশ, একজনের ৮০ শতাংশ, আরেকজনের ৪৫ শতাংশ, দুইজনের ২৫ শতাংশ এবং দুইজনের ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
এই চিকিৎসক বলেন, এরই মধ্যে দগ্ধদের ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আহতদের ভাগ্যে কী ঘটে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।



