নির্মাণের প্রায় চার দশক পর সম্প্রসারিত হচ্ছে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়ক। এর মধ্যে প্রশস্তকরণ শেষ হওয়ার পর চলছে কার্পেটিং। ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির কাজ শেষ হলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও রাঙামাটির লংগদু ও বাঘাইছড়ির বাসিন্দাদের পাশাপাশি সাজেকগামী পর্যটকেরা দ্রুত ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
১৯৮০ সালে চেঙ্গী ভ্যালি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয় ১২ ফুট প্রশস্ত খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়ক। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে যাতায়াতের একমাত্র পথ এটি। এ ছাড়া রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার মানুষও ব্যবহার করেন এই সড়ক। তবে আঁকাবাঁকা ও অপ্রশস্ত হওয়ায় সড়কটিতে প্রায়ই ঘটতো দুর্ঘটনা।
চলতি অর্থবছরে সড়কটি ১২ ফুট থেকে ১৮ ফুট প্রশস্তকরণে উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এখন চলছে কার্পেটিংয়ের কাজ। দীর্ঘদিন পর সড়কটি প্রশস্ত করায় খুশি চলাচলকারী।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘সড়কটি প্রশস্তকরণ খুবই প্রয়োজন ছিল। মাত্র ১২ ফুটের রাস্তা দিয়ে চলাচল অত্যন্ত কঠিন। এই সড়কে গাড়ির চাপ বেশি। এই সড়কটা অনেকদিন ধরে সরু ছিল, চলাচলে অনেক কষ্ট হতো। এখন যদি রাস্তা বড় করা হয় তাহলে আমাদের যাতায়াত অনেক সহজ হবে সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে আমাদের স্বস্তি মিলবে।’
সড়ক তৈরির ক্ষেত্রে উন্নত কাঁচামাল ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে বলে জানায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
ঠিকাদারের এক প্রতিনিধি বলেন, ‘সড়কটি নির্মাণে আমরা গুণগত মান রক্ষা করছি। সম্পূর্ণ কমিম্পউটার নিয়ন্ত্রিত অ্যাশফাল্ট ব্যাচ মিক্স প্ল্যান্ট দিয়ে তৈরি করা উপকরণ দিয়ে কার্পেটিং করা হচ্ছে।’
সামনে জুলাইয়ের মধ্যেই নির্মাণ শেষ হবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সড়ক সম্প্রসারণের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পর্যটনে, আশা কর্মকর্তাদের।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘সড়কটিতে এখন সংস্কার কাজ চলছে। সড়কটি বর্তমানে ১২ ফুট রয়েছে এখন তা বেড়ে ১৮ ফুট হবে। এতে চলাচলকারীদের স্বস্তি মিলবে।’
১৮ কিলোমিটার সড়কটি প্রশস্তকরণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা।



