ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঠিকাদারের হামলা-মারধোরের শিকার প্রকৌশলী নিরাপত্তাহীনতায় কর্মস্থল থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাচ্ছেন গ্রামের বাড়িতে। এদিকে এ ঘটনায় মামলা হলেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ।
সোমবার দুপুরে জেলার নবীনগরের শিবপুর এলাকায় সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মে জড়িত ঠিকাদারের হামলার শিকার হন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মীর্জা মো. তরিকুল ইসলাম। তাকে মারতে বাঁশ নিয়ে ধাওয়া করার,ইট ছুড়ে মারার একটি ভিডিও ক্লিপ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় থানায় একটি মামলা দেন ওই প্রকৌশলী।
মামলায় ঠিকাদার লোকমান হোসেন ও তার গাড়ি চালক মো. বিল্লাল হোসেন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নবীনগরের মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠলে ওইদিন সড়কের কাজ পরিদর্শন করতে আসেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি বিশেষজ্ঞ দল। কাজ পরিদর্শনের সময় ঠিকাদার মো. লোকমান হোসেন ও তার লোকজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের ওপর হামলা করেন।
এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহীর বরেন্দ্র কন্সট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার এই কাজটি নেন জেলা সদরের বাসিন্দা, মেসার্স লোকমান হোসেন নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী লোকমান হোসেন। কাজ শুরুর পর থেকেই কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। সেকারণে কাজটি দেখতে চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালী করন প্রকল্পের কর্মকর্তা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহ আলমগীর ও আহম্মদ আলী , নির্বাহী প্রকৌশলী তরুন কুমার বৈদ্য কাজের স্থলে আসেন। তাদের সঙ্গে সেখানে যান নবীনগর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফেরদৌস আলম এবং উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. মাসুদুর রহমান মজুমদার ও মীর্জা মো. তরিকুল ইসলাম। সড়কের কাজ দেখার সময় শিবপুর ওস্তাদ আলাউদ্দিন খা কলেজের পশ্চিম পাশে আফতাব উদ্দিন মাজারের সামনে রাস্তার উপর প্রকৌশলীর ওপর হামলার ঘটনা হয়।
থানায় দেওয়া এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নিম্নমানের কাজ পরিদর্শনে বাধার সৃষ্টি করতে ধাওয়া করে মারধোর করা হয় উপসহকারী প্রকৌশলী তরিকুলকে। নিম্নমানের কাজের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে লোকমান হোসেন এলাকার শক্তি দেখান এবং প্রকৌশলীদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। তরিকুল ইসলাম গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে ঠিকাদার লোকমান ও তার ড্রাইভার বিল্লালসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তরিকুল এবং অন্য প্রকৌশলীদেরকে লাঠি নিয়ে তাড়া করেন। এসময় তরিকুলের পায়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে এবং ইট দিয়ে ঢিল মেরে আহত করা হয়। এসময় তরিকুলকে প্রাণে মারার হুমকি দেন।
উপসহকারী প্রকৌশলী মীর্জা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিম্নমানের কাজ হতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে রোববার উপজেলা প্রকৌশলী, কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং তিনি সেখানে যান। সরজমিনে নিম্নমানের কাজ হতে দেখে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর রাতে আবার কাজ শুরু হলে এলাকার লোকজন ফোন করে জানালে তাৎক্ষণিক তারা সেখানে ছুটে যান। পরদিন ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞরা ওই কাজ দেখতে আসেন। সেসময় কাজের বিষয়ে প্রশ্ন করলে ঢাকা থেকে আসা স্যারদের সামনে আমাকে মারতে উদ্যত হন ঠিকাদার লোকমান। এক পর্যায়ে হাতে বাঁশ নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালসহ পেটানোর জন্য ধাওয়া করেন। তখন দৌড়ে কোনোরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে আসি।’
মীর্জা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ‘ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার আতঙ্কে রয়েছেন। তার ২ ও ৩ বছর বয়সী দুই শিশু সন্তান রয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় স্ত্রী ও সন্তানদের আজ জামালপুরে নিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে মামলা রেকর্ড হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের টিম কাজ করছে।’



