বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও মৈত্রী পানি বর্ষণ উৎসবের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে উদযাপিত হয়েছে মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসব। নৃত্য ও গানের পরিবেশনায় উৎসবকে বরণ করে নেন মারমা শিল্পীরা।
পুরাতন বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ করে নিতে মারমা সম্প্রদায়ের এ নববর্ষ উৎসব উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়। এর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
মঙ্গলবার সকালে জেলা সদরে মারমা উন্নয়ন সংসদের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। শোভাযাত্রায় ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও অলংকার পরে বিভিন্ন বয়সী মারমা নারী-পুরুষ অংশ নেন। এতে নৃত্য ও গান পরিবেশন করে মারমা শিল্পীরা।
সাংগ্রাইয়ের অন্যতম আকর্ষণ ‘মৈত্রী পানি বর্ষণ’-এ অংশ নিয়ে পুরাতন বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানান তরুণ-তরুণীরা। নতুন বছর শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক—এই প্রত্যাশায় তারা পানি খেলায় মেতে ওঠেন।
উৎসবে অংশ নেওয়া মারমা তরুণী জলিপ্রু মারমা বলেন, ‘আমরা সারা বছর এই উৎসবের অপেক্ষায় থাকি। সাংগ্রাই শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। নতুন বছর আমাদের জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক—এই কামনা করি।’

সকালে খাগড়াছড়ি সেনাবাহিনীর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ওবায়দুল হক মৈত্রী পানি বর্ষণ উৎসবের উদ্বোধন করেন। একই স্থানে মারমা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠী সংগীত পরিবেশন করে পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এর আগে একই মঞ্চে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মারমা উন্নয়ন সংসদের সভাপতি মংপ্রু চৌধুরী।
শোভাযাত্রাটি পানখাইয়াপাড়া মারমা উন্নয়ন সংসদের মাঠ থেকে শুরু হয়ে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পুরো শোভাযাত্রাজুড়ে ছিল ঐতিহ্যবাহী পোশাক, নাচ-গান ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অনন্য প্রদর্শন।
মারমা উন্নয়ন সংসদের সভাপতি মংপ্রু চৌধুরী বলেন, ‘সাংগ্রাই উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে মারমা জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভাষা ও ইতিহাস সংরক্ষণ ও চর্চা আরও শক্তিশালী হবে।’



